• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 21 June, 2026

ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ময়নাগুড়িতে, বাস-ট্রেলারের সংঘর্ষে মৃত ৫, আহত একাধিক

আহতদের মধ্যে ৩ বছরের শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১৫ জন পুরুষ যাত্রী, দুজন শিশু এবং ১২ জন মহিলা যাত্রী আহত হয়েছেন

জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি এলাকার উল্লাডাবরিতে অঞ্চলে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ঘটল। রবিবার সকালে ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরি তিস্তা সেতুর কাছে বাস ও ট্রেলারের সংঘর্ষে এই পথ দুর্ঘটনা ঘটে। আর তাতেই পাঁচজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর সামনে এল। পুলিশ মৃতদের নাম, পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। একাধিক বাসযাত্রী আহত হয়েছেন বলে খবর। তবে এই পথ দুর্ঘটনার পরে আহতদের জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃষ্টিভেজা রাস্তায় এই পথ দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে যাত্রীবাহী বাস এবং ট্রেলারের সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থলে। আর আহত কমপক্ষে ২১ জন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে একজন শিশু ও দুই মহিলা। জাতীয় সড়কের উল্লাডাবরি উড়ালপুলের কাছে এই পথ দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। বৃষ্টিভেজা রাস্তার জেরেই এই পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, একটি ট্রেলারের সামনের চাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাস্তার পাশে তা দাঁড়িয়ে ছিল। তখন শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাড়িয়ে থাকা ট্রেলারটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। তখনই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসের ভিতর থেকে আর্তনাদ বেরিয়ে আসে। তা শুনতে পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ এবং দমকলে। তারা এসে আহতদের চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। আর কয়েকজন আহতদের ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথেই তখন মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

তাছাড়া হাসপাতাল সূত্রে খবর, মোট ৩৯ জনকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়েছে। তার মধ্যে ১৮ জন আইসিইউতে ভর্তি আছেন। আহতদের মধ্যে ৩ বছরের শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১৫ জন পুরুষ যাত্রী, দুজন শিশু এবং ১২ জন মহিলা যাত্রী আহত হয়েছেন। জাতীয় সড়ক থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস এবং ট্রেলারটিকে সরানো হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ পর আবার যান চলাচল শুরু হয়েছে। এই পথ দুর্ঘটনা নিয়ে ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, ‘পথ দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। অন্যান্য গাড়ি দাঁড় করিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অ্যাম্বুল্যান্সও এসেছে।’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিজেপি বিধায়ক আনন্দদেব অধিকারী বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছি। কী করে দুর্ঘটনা ঘটল সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’