সংসদের অন্দরে আবার প্যাঁচে পড়ল মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রদবদলে মমতা শিবিরের হাতছাড়া হল দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের পদ। রাসায়নিক এবং সার বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ। তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে এনসিপিআইয়ের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে। একাধিক বিভাগীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তার জেরেই এই রদবদল। এখানেই শেষ নয়, বাণিজ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন দোলা সেন। তাঁকে সরিয়ে আনা হল বিজেপির সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে।
এদিকে রাজ্যসভা চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকারের মাধ্যমে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পুনর্গঠনের পরেই এই রদবদল করা হয়েছে। সুতরাং একদিকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদ হারাল মমতা শিবিরের তৃণমূল। অপরদিকে বিদ্রোহী শিবিরের কাকলি ঘোষদস্তিদারকে চেয়ারম্যান করা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। আবার শিল্প বিষয়ক সংসদীয় কমিটি এবং খাদ্য, উপভোক্তা বিষয়ক প্যানেলের চেয়ারপার্সন হিসাবে পুনর্বহাল করা হল ডিএমকে-র দুই সাংসদ তিরুচি শিবা এবং কে কানিমাঝিকে। এনডিএ-র শরিকদল জেডিইউ, শিবসেনা (শিন্ডে) এবং টিডিপি-র সাংসদরা নানা সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন। তাঁদের সেই পদেই রাখা হয়েছে। বিদেশ এবং কৃষি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে পুনর্বহাল করা হল শশী থারুর এবং চরণজিৎ সিং চান্নিকে।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরই দল বেঁধে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছিলেন ২০ জন সাংসদ। এনসিপিআই দলে যোগ দিয়ে তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। সংসদে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়দের আসন বদলও করা হয়। সুদীপ-কাকলিদের সামনের সারিতে এনে পিছিয়ে দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের। সেটাও কালীঘাটের কাছে বেশ অস্বস্তির ছিল। এবার আবার সংসদীয় কমিটিতে বদল ঘটিয়ে মমতার শিবিরকে প্যাঁচে ফেলা হল বলে মনে করা হচ্ছে। আগেই ভেঙে গিয়েছে বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল। তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। এবার স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকেও ছেঁটে ফেলা হল মমতা শিবিরকে।
তাছাড়া এখন এনসিপিআই সাংসদদের সদস্যপদ বিষয়টা সার্বিকভাবে বিচারাধীন। কেন এই দলবদলু সাংসদদের সাংসদ পদ বাতিল হবে না? এই প্রশ্নের জবাব দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তার মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়ে মামলা হয়েছে। সেখানে আবার এমন সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করেছে।




