• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 19 July, 2026

সালানপুরে নতুন রাস্তা নষ্ট করে বেসরকারি সংস্থার কেবল বসানোর অভিযোগ

সরকারি নিয়ম ও অনুমতিপত্রের তোয়াক্কা না করেই রাস্তা ঘেঁষে চলছে বেসরকারি সংস্থার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল (ওএফসি) বসানোর কাজ।

সালানপুরে নতুন রাস্তা নষ্ট করে বেসরকারি সংস্থার কেবল বসানোর অভিযোগ

Pic-SNS

সরকারি নিয়ম ও অনুমতিপত্রের তোয়াক্কা না করেই রাস্তা ঘেঁষে চলছে বেসরকারি সংস্থার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল (ওএফসি) বসানোর কাজ। বিশাল ড্রিল মেশিন দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির জেরে নষ্ট হচ্ছে সদ্য নির্মিত পিচের রাস্তা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আসানসোলের সালানপুর ব্লকের আমডাঙা মোড় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে তৎপর সালানপুর ব্লক প্রশাসন। শনিবার ব্লক আধিকারিকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে সালানপুর থানার পুলিশ পৌঁছায়। পুলিশ আপাততঃ কেবল বসানোর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমডাঙা মোড় এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল (ওএফসি) বসানোর কাজ চলছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মূল রাস্তা থেকে অন্তত ১ মিটার (প্রায় ৩ ফুট) দূরত্ব বজায় রেখে কেবল লাইনের জন্য গর্ত করার কথা। কিন্তু অভিযোগ, সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঐ বেসরকারি সংস্থা নিজেদের মনমর্জি মতো একেবারে রাস্তার কোল ঘেঁষে ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত খুঁড়ছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,যেভাবে ড্রিল মেশিন দিয়ে রাস্তার গা-সাঁটিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে, তাতে নবনির্মিত মজবুত রাস্তাটি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে। তার ওপর এখন বর্ষাকাল। রাস্তার ঠিক পাশেই এভাবে গভীর গর্ত করার ফলে বৃষ্টির জলে মাটি নরম হয়ে যাচ্ছে। এর জেরে ওই রাস্তা দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন যাওয়ার সময় চাকা মাটিতে ধসে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বক্তব্য, কয়েক মাস আগেই রূপনারায়ণপুর আমডাঙা মোড় থেকে গৌরাণ্ডি পর্যন্ত এই পিচের রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল।

যদিও রাস্তাটি অত্যন্ত নিম্নমানের করা হয়েছিল, তবুও এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটুকুই একমাত্র ভরসা। এখন কোনো এক বেসরকারি সংস্থা নিজেদের মুনাফা লাভের জন্য সরকারি সম্পত্তি এভাবে নষ্ট করছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ বাড়তেই খবর দেওয়া হয় ব্লক প্রশাসনকে।

সালানপুরের ব্লক আধিকারিক বা বিডিও ঘটনাটি জানতে পেরেই দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তাঁর নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং কাজ বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঐ বেসরকারি সংস্থার কেবল বসানোর আদৌ কোনো বৈধ অনুমতি রয়েছে কিনা, এবং থাকলে তা কোন শর্তে দেওয়া হয়েছে, সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এখন দেখার, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অপরাধে ঐ সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে, এই অভিযোগ নিয়ে ঐ বেসরকারি সংস্থার তরফে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।