ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তারক্তির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। জানা গিয়েছে, আসন্ন প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ প্রচারের দিন ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৭ নম্বর বুথ এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ওই এলাকায় এক নির্দিষ্ট প্রার্থীর সমর্থনে তৃণমূল কর্মীরা বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাচ্ছিলেন। একই সময়ে বিরোধী শিবিরের সমর্থকরাও প্রচার কর্মসূচি নিয়ে এলাকায় উপস্থিত হন। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকেই প্রথমে শুরু হয় তীব্র বচসা, যা দ্রুত হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষের রূপ নেয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং একাধিক বাইক ভাঙচুর করা হয়। এমনকি কয়েকটি বাইক পুকুরে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তৃণমূল কর্মীরাই প্রথমে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং তাঁদের কর্মীদের উপর আক্রমণ করে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, বিজেপিই এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে তাঁদের এক স্থানীয় নেতার পরিবারের সদস্যকে অপহরণের ঘটনাতেও বিরোধী শিবিরের নাম জড়িয়েছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এলাকায় টহলদারি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই ঘটনায় নন্দীগ্রামে ভোটের মুখে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement