মোথাবাড়িতে অশান্তির ঘটনায় আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিকে গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি সরব হয়ে দাবি করেন, তাঁদের প্রার্থীকে ‘অন্যায়ভাবে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখা, গাড়ি ভাঙচুর এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁকে এই ঘটনার অন্যতম মূলচক্রী বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
এ দিন হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে আইএসএফ প্রার্থী নাজিরা খাতুনের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে কোনও লাভ হবে না। আইনি লড়াই চলবে, পাশাপাশি মাঠে ময়দানে লড়াই চলবে। ভোটে জেতার লড়াইও জারি থাকবে।’ নওশাদ সিদ্দিকি অভিযোগ করেন, তৃণমূল এবং বিজেপি মিলে আইএসএফকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক চক্রান্ত করছে। তাঁর বক্তব্য, ‘আইএসএফ ভালো ফল করবে বুঝেই ওরা ভয় পেয়েছে। তাই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
Advertisement
তবে এই ঘটনায় তৃণমূলের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। তৃণমূলের দাবি, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে অশান্তি তৈরির চেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে শাসক শিবির। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট করেছিলেন, কোনওভাবেই অশান্তি বা আইন ভাঙার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও তা শান্তিপূর্ণ হতে হবে—এই বার্তাই দিয়েছে তৃণমূল।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এ দিন কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘ওখানাকার মানুষের বিক্ষোভের কারণটা সঠিক। তবে বিক্ষোভের ধরনটা বেঠিক।… কংগ্রেসের ওখানকার প্রার্থী শান্তিপূর্ণভাবে কয়েক ঘণ্টার জন্য অবস্থান বিক্ষোভ করেছিল। তবে আমাদের টক্কর দেওয়ার জন্য তৃণমূলের নেতারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে লোক জড়ো করে ওখানে অশান্তি করেছে।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তবে সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
Advertisement



