• facebook
  • twitter
Sunday, 24 May, 2026

‘পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দিন’, জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে বার্তা কাকলির

রাজ্যে দুর্নীতি এবং অপরাধের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের বাড়ল জল্পনা। আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ পাওয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে কাকলির বার্তা, ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থা’র বদলে দলের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর গত ১৪ মে কালীঘাটে দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কাকলিকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্তের পরের দিনই সমাজমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট করেন কাকলি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ সেই পোস্ট ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা।

Advertisement

এবার সেই বিতর্ক আরও উসকে দিয়ে জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন তিনি। সুব্রত বক্সীকে লেখা চিঠিতে কাকলি লিখেছেন, ‘নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমার আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।’

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নির্বাচনের আগে এবং পরে তৃণমূলের সঙ্গে একটি পেশাদার রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার কাজ করা নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ভোটে খারাপ ফলের পর সেই সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের একাংশের নেতারা।

চিঠিতে কাকলি আরও লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে দুর্নীতি এবং অপরাধের একাধিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা এবং শিষ্টাচার আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। বারাসতের সাংসদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর এলাকায় দল প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। সেই নৈতিক দায় নিজের কাঁধেও নিচ্ছেন তিনি। আর সেই কারণেই জেলা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কাকলির এই পদত্যাগ এবং চিঠির ভাষা ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে পরাজয়ের পর দলের ভিতরে যে অস্বস্তি এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, কাকলির পদক্ষেপ সেই অসন্তোষকেই আরও প্রকাশ্যে এনে দিল।

Advertisement