• facebook
  • twitter
Friday, 24 April, 2026

বারুইপুরের মেগা সভায় যাদবপুর ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা মোদীর

'দেওয়ালে দেশবিরোধী কথা, পড়াশোনা হচ্ছে না!'

বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে প্রচারের উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। পানিহাটির পর শুক্রবার বারুইপুরের জনসভা থেকেও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শাসকদলকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যাদবপুর, বারুইপুর ও জয়নগরের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই মেগা সভা থেকে তিনি দুর্নীতি, সিন্ডিকেটরাজ, নারী নিরাপত্তা থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি— একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। বিশেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এখন হুমকি দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্যাম্পাসের দেওয়ালে দেশবিরোধী লেখা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ ছাত্রদের জোর করে মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। ‘পড়াশোনার পরিবেশ নেই বললেই চলে’— এই মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে সরকার রাজ্যের অন্যতম সেরা শিক্ষাকেন্দ্রকে রক্ষা করতে পারে না, তারা গোটা রাজ্যের দায়িত্ব কীভাবে সামলাবে?

Advertisement

এই ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন, সংবিধান যে ভোটাধিকার দিয়েছে, সেটাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাঁর দাবি, তৃণমূলের দুর্নীতি, সিন্ডিকেটরাজ, বেকারত্ব ও নারী নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে এই নির্বাচনে পরিবর্তন জরুরি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলাগুলিও ফের খোলা হবে।

Advertisement

এদিন বারুইপুরের সভা থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বালি, ইট ও সিমেন্টের ব্যবসায় সিন্ডিকেটরাজ চালু রয়েছে। সাধারণ মানুষ নিজেদের জমিতে বাড়ি তৈরি করতে গেলেও বাধার মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নেও তৃণমূল ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দফার ভোটে বিপুল ভোটদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ভোটই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর কটাক্ষ, ‘তৃণমূল কয়েকটি জেলায় খাতাই খুলতে পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। রাজ্যের উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

প্রসঙ্গত, এদিন সকালে পানিহাটির সভায় আরজি কর ইস্যুতে নারী নিরাপত্তার কথা বলার পর বারুইপুর থেকেও সেই প্রসঙ্গ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে পাল্টা দাবি করা হচ্ছে, রাজ্য সরকার মহিলাদের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

সব মিলিয়ে নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর এই সরাসরি বাক্যযুদ্ধ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে নির্বাচনী লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ইস্যু যে রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে, তা বলাই যায়।

Advertisement