রাজবংশী গড় হিসেবে পরিচিত কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ থেকে বাংলায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন কোচবিহারের সভা থেকে মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখার জন্য তৃণমূলকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, “মালদহে যা ঘটেছে, তা শুধু বিশৃঙ্খলা নয়, এটা তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত মহাজঙ্গলরাজ’।”
তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর হামলা সংবিধানের গলা টিপে ধরার শামিল। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের মদতে এই ঘটনা ঘটেছে এবং বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়াই লক্ষ্য ছিল। –
Advertisement
কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে সাত বিচারককে সাড়ে সাত ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আইনজীবী মফাক্কেরুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় পাকড়াও হন এবং বর্তমানে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মফাক্কেরুল রাতের ভিড়কে উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিলেন।
Advertisement
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় এসে এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং নেতৃত্বে ২৪ জনের বিশেষ দল মালদহে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই কালিয়াচক-২ ব্লক অফিস ও মোথাবাড়ি থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বিচারকদের ওপর হামলার পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা সংগঠনের হাত ছিল কি না, তা যাচাই করছেন।
অন্যদিকে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মোদীর মঞ্চে দেখা গেল রাজবংশীদের দু’টি গোষ্ঠীর প্রভাবশালী মুখ অনন্ত মহারাজ এবং বংশীবদন বর্মনকে । একে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে পদ্ম শিবিরের মাস্টার স্ট্রোক বলে অনেকে মনে করছেন। দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এবং ‘গ্রেটার কোচবিহার’ ইস্যুতে বিরোধ রাজনৈতিক মহলে সকলের কাছেই সুপরিচিত। অতীতে তাঁদের একসঙ্গে কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়নি। গত কয়েক মাস ধরে বিজেপির সঙ্গে অনন্ত মহারাজের টানাপড়েন চলছিল। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানও নিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। রবিবারের এই ছবি যেন সব জল্পনায় জল ঢেলে দিল।
শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজেন্দ্র সিংহ শেখায়াত ও ভূপেন্দ্র প্রসাদ অনন্ত মহারাজের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ছবি ভাইরাল হয়। তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, ভোট বৈতরণী পার করতে গ্রেটার নেতার মান ভাঙাতে মরিয়া দিল্লি। রবিবারের সভামঞ্চে অনন্ত মহারাজের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘মিশন’ সফল হয়েছে।
কোচবিহার ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে রাজবংশী ভোট জয়ে বড় ফ্যাক্টর। অনন্ত মহারাজ ও বংশীবদন বর্মন— দু’জনেই নিজ নিজ গোষ্ঠীর প্রবল প্রভাবশালী নেতা। তাঁদের এক মঞ্চে নিয়ে আসা বিজেপির স্ট্র্যাটেজির জয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও বারবার রাজবংশী অনুভূতিকে ছোঁয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘ঐক্য’ তৃণমূলের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
Advertisement



