• facebook
  • twitter
Monday, 23 February, 2026

মুকুলের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মমতা-মোদীর, শ্রদ্ধা জানাতে বিধানসভায় অভিষেক

সোমবার সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, দীর্ঘ দিনের সহকর্মী ও বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা মুকুলের আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ তাঁকে শোকস্তব্ধ ও মর্মাহত করেছে

মুকুল রায়ের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, দীর্ঘ দিনের সহকর্মী ও বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা মুকুলের আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ তাঁকে শোকস্তব্ধ ও মর্মাহত করেছে। শোকবার্তায় তিনি মুকুলের তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা, পরবর্তী সময়ে তৃণমূল দলত্যাগ এবং শেষ পর্যন্ত দলে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গও স্মরণ করেছেন। তাঁর কথায়, বাংলার রাজনীতিতে মুকুলের সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভূত হবে। মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ওঁর সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।’

Advertisement

প্রয়াত বিধায়ককে ‘অভিজ্ঞ নেতা’ এবং ‘সহকর্মী’ বলে উল্লেখ করে মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে সমবেদনা জানিয়েছেন মমতা। তাঁর বার্তা, ‘মন শক্ত করো: এই সঙ্কটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।’প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও শোকপ্রকাশ করে বাংলায় লিখেছেন, ‘প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায়জির প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।‘

Advertisement

তৃণমূলের বর্তমান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখলেন, ‘বঙ্গ রাজনীতিতে একটা যুগের অবসান’।  জানা গিয়েছে, মুকুলপুত্রকে ফোনও করেছেন তিনি।সূত্রের খবর, বিধানসভায় প্রয়াত বিধায়কের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে উপস্থিত থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন অভিষেক।

মুকুলের মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছেন তাঁর আর এক রাজনৈতিক সহকর্মী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। বিজেপি পরিষদীয় দলের তরফে বিধানসভায় কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ককে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্ডা, জয়পুরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন সাংসদ নরহরি মাহাতো এবং ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিংহ।

নয়ের দশকের গোড়ার দিকে কংগ্রেসে থাকার সময় মমতার সঙ্গে মুকুলের রাজনৈতিক পরিচয়। ১৯৯৭ সালে তৃণমূল গঠনের পর তিনি দলের প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং দীর্ঘদিন মমতার অন্যতম আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করেন। ২০০৬ সালে রাজ্যসভায় পাঠানো থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব পাওয়া—সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রতি নেতৃত্বের আস্থা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু সারদাকাণ্ডের পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে মুকুলের।

রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং সংগঠন মজবুত করতে ভূমিকা নেন। তার আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ এবং সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি ছিলেন। ওই সময়ে মুকুলের হাত ধরে তৃণমূল থেকে অনেকেই বিজেপিতে চলে যান। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি ১৮টা আসন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আরও গুরুত্ব বাড়ে মুকুলের। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীও করে তাঁকে। সেই সময় একটি নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুকুলের জন্য ‘দুঃখপ্রকাশ’ করেন মমতা।

তবে সাড়ে তিন বছর পর ‘ঘর ওয়াপসি’ হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়ের। সে সময় তাঁকে ‘ঘরের ছেলে’ বলেই স্বাগত জানিয়েছিলেন মমতা। আর অভিষেকের হাত থেকে উত্তরীয় পরে মুকুল বলেছিলেন, ‘বিজেপি থেকে বেরিয়ে খুব ভাল লাগছে। নতুন আঙিনায় এসেছি, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে… আর এটা ভেবে ভাল লাগছে, বাংলা আবার তার নিজের জায়গায় ফিরবে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মমতা।’ তাঁর প্রয়াণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

 

Advertisement