নদিয়ার চাকদহ, হরিণঘাটা এবং কল্যাণীর তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে মঙ্গলবার নির্বাচনী জনসভা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাকদহের মশড়া নবপল্লি মাঠের এই জনসভা থেকে বিজেপিকে বাংলার মাটিতে শূন্য করার ডাক দিয়েছেন মমতা। চাকদহের সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমোর স্পষ্ট বার্তা, ‘এবারের ভোট নিজের মাটি এবং অধিকার বাঁচাবার লড়াই।
তাই অন্য কোনও দলকে ভোট দিয়ে বিজেপির হাত শক্ত করবেন না।’ নদিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন,একটা লোককেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেবেন না। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফের তালিকায় তুলতে তিনি ও তাঁর দল শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন।
Advertisement
মঙ্গলবার চাকদহের সভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ প্রধান। তিনি বলেন, ‘বাংলায় বিজেপিকে শূন্য করতে হবে। তাই অন্য কোনও দলকে একটিও ভোট নয়। নিজেদের ঠিকানা, ভাষা ও গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য এবারের ভোট। এই ভোট সম্মান বাঁচানোর লড়াই। আমি যা বলি তা করি। আমি কথা যাচ্ছি, কারও নাম বাদ দিতে দেব না। একটা লোককেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেব না।’ মমতার অভিযোগ, বিজেপি শুধুই ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দেয়। বিজেপি কাউকে ক্যাশ দিচ্ছে, কাউকে গ্যাস দিচ্ছে। কিন্তু ভোট ফুরোলেই সব উধাও হয়ে যাবে। ওদের বিশ্বাস করবেন না।
Advertisement
কমিশনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এসআইআরের নামে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জেলায় জেলায় লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। উকুন বাছার মতো বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এক দিকে নাম কাটছে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ সেন্ট্রাল ফোর্স পাঠাচ্ছে। আমাদের থাকতে দিতে হবে, খেতে দিতে হবে। তার পরেও ওরা বিজেপির হয়ে কাজ করবে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এসআইআর করতে গিয়ে আড়াইশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সোমবারও তিন জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাই। তালিকায় কারও নাম উঠেছে, কারও ওঠেনি। কিন্তু সেও তো আপনাদের প্রতিবেশী। যাদের নাম এখনও ওঠেনি বা কেটে দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য লড়াই জারি থাকবে।’
তৃণমূল সুপ্রিমোর আশ্বাস, বাদ পড়া সব নাম যাতে তালিকায় ফিরে আসে, তার জন্য তিনি ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হবেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্মম, নির্দয় মোদী সরকার কথায় কথায় আপনাদের লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। আপনারাও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে এই অসম্মানের জবাব দিন। হেনস্থার বদলা নিন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটা করে ভোট দিন আর একটা করে বদলা নিন। বিজেপি যেন আগামী দিনে বাংলাকে দখল করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখুন।’
রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের বদলি নিয়েও চাকদহের সভা থেকে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার অফিসারদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে বহিরাগতদের এনে রাজ্যের ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বিজেপি ভোট লুটের পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে হবে।
Advertisement



