দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। হেলিকপ্টার মাটি ছোঁয়ার পরেই ভেঙে যায় হেলিপ্যাডের একাংশ। আর তাতেই বেসামাল হয়ে বসে যায় হেলিকপ্টারের চাকা। যদিও তার আগেই কপ্টার থেকে নেমে যান রাষ্ট্রপতি। বুধবার সকালে কেরলের প্রমোদমে এই ঘটনাটি ঘটে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আজ সকালে আমাদের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্থ জীবন কামনা করি।’
চারদিনের কেরল সফরে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বুধবার সকালে শবরীমালা মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তখনই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কেরলের প্রমোদম স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রপতির হেলিকপ্টার নামার পর অতিরিক্তি ওজনের ফলে হেলিপ্যাডের একাংশ ভেঙে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎক্ষণাৎ কাজে নামে পুলিশ ও দমকল। অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টার পর কপ্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন করে হেলিপ্যাড তৈরি হওয়ায় কংক্রিট জমেনি। সেই কারণে হেলিকপ্টারের ওজন নিতে পারেনি। কপ্টারের চাকা যেখানে ছিল, সেখানে ফাটল ধরেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী ইশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন ‘কেরল সফরে আজ সকালে বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচেছেন আমাদের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।‘
এই দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোড়গোল পড়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দমকল ও পুলিশকর্মীরা হাত দিয়ে ঠেলে কপ্টারটিকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। চারদিনের কেরল সফরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিরুঅনন্তপুরমে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার-সহ একাধিক মন্ত্রী।
কেরলের শবরীমালা মন্দিরে বুধবার ভগবান আয়াপ্পাকে পুজো দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের ইতিহাসে প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে এই মন্দিরে পুজো দেওয়ার ইতিহাস গড়লেন তিনি। পাম্পা থেকে সন্নিধানম পর্যন্ত পাহাড়ি পথ পেরনোর জন্য বিশেষ চার-চাকা গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ড ও রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা ছিল আঁটোসাঁটো। সন্নিধানমে পৌঁছে ১৮টি সিঁড়ি পেরিয়ে আয়াপ্পার কাছে পৌঁছোন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান কেরলের দেবস্বম মন্ত্রী ভি এন বাসাবন এবং ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের সভাপতি পি এস প্রশান্ত। মন্দিরের তন্ত্রী কন্দরারু মহেশ মোহনারু তাঁকে পূর্ণ কুম্ভ দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি মালিকাপ্পুরম দেবীর মন্দিরেও পুজো দেন। শেষে দেবস্বম বোর্ডের অতিথিশালায় ফিরে বিশ্রাম নেন ও মধ্যাহ্ন ভোজন করেন। দ্রৌপদী মুর্মু প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসেবে শবরীমালায় প্রবেশ করলেন। এর আগে সাতের দশকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এই মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বলে খবর।
শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। এক সময় বিতর্ক-আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মন্দির। মহিলাদের আন্দোলনে প্রতিদিন শিরোনামে থাকত শবরীমালা মন্দির। সেই মন্দিরে মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসেবে পা রাখা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।




