ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা তুঙ্গে। প্রার্থী বাছাই থেকে ভোটের কৌশল— সব কিছু নিয়েই ব্যস্ততা চলছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি চাপে বামেরা। কারণ, ভোট ঘোষণার আগেই প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর বামেদের সঙ্গে জোটে নেই। এর জেরে বামফ্রন্ট শরিকদের মধ্যে আসন রফা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
বামফ্রন্টের বৈঠকগুলিতে ধারাবাহিক ভাবে আসন সংখ্যা, দাবিদাওয়া ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। একুশের নির্বাচনে কংগ্রেস ৯৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। কংগ্রেস সরে যাওয়ায় সেই আসনগুলি বাম শরিকদের মধ্যে ভাগ হতে পারে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, শুধু আসন পেলেই লাভ হবে না। সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং তৃণমূল-বিজেপির বাইনারি রাজনীতির বাইরে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হয়ে ওঠাই বামেদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
Advertisement
এর মধ্যেই নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিয়ে বেশি আসনের দাবি জানিয়েছে। যদিও সংখ্যায় রদবদল হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আইএসএফ নেতৃত্ব। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে এসইউসিআই থাকলেও তারা ভোটে থাকছে না। তবে সিপিআইএমএল লিবারেশন এবার বামফ্রন্টে থাকছে। তাদের জন্য ৭–৮টি আসন ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও লিবারেশন ১২টি আসন দাবি করতে পারে।
Advertisement
মুজফ্ফর আহমদ ভবন সূত্রে খবর, কংগ্রেস সরে গেলেও অতীতের ফরমুলায় আসন বণ্টন হবে না। ২০২৬-এর বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সিপিআই ও ফরওয়ার্ড ব্লকের বৈঠক হয়েছে। সিপিআই ২০টির বেশি, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৬–২৮টি আসন চেয়েছে। আইএসএফ পেতে পারে ৩০–৩৫টি আসন। বাকি আসনে সিপিএম প্রস্তুত। ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি সিপিএম রাজ্য কমিটিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
Advertisement



