কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে বিচারপতি সুজয় পাল শুক্রবার, ১৯ জুন অবসর গ্রহণ করেছেন। এদিন কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁর অবসরের কথা জানায়। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিচারপতি সুজয় পাল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট থেকে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টের ৪৪ তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
তাঁর অবসরের পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ভারতের সংবিধানের ২২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক এই নিয়োগের ঘোষণা করেছে।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর পরিচয়
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর জন্ম ১৯৬৭ সালের ৭ মার্চ এক আইনজীবী পরিবারে। তাঁর বাবা অমর চক্রবর্তী দীর্ঘদিন কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক এবং যুক্তফ্রন্ট সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ১৯৯১ সালের ৩০ মে রাজ্য বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। এরপর প্রায় ২২ বছর কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে ওকালতি করেন। ৩০ অক্টোবর ২০১৩ সালে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ হন। এরপরে ২০১৬ সালে ১৪ মার্চ তিনি স্থায়ী বিচারপতি হন।
বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন। আইনজীবী হিসেবে তাঁর বিশেষজ্ঞতার ক্ষেত্র ছিল সাংবিধানিক আইন, দেওয়ানি আইন, শিক্ষা আইন এবং সার্ভিস সংক্রান্ত আইন।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর গুরুত্বপূর্ণ রায়দান
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় উল্লেখযোগ্য রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলা। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করে হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহালের নির্দেশ দেন। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত আরেক মামলায় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘শুধুমাত্র সন্দেহ বা অনুমানের ভিত্তিতে চাকরি বাতিল করা যায় না। প্রত্যেক নিয়োগপ্রাপ্তের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অনিয়ম প্রমাণ করতে হবে। বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণ, অনুমান নয়।’
এছাড়াও ওবিসি সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছিল তা তিনি রায়ের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে বাতিল হয়ে গিয়েছিল প্রায় পাঁচ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট যা তৎকালীন রাজ্য সরকারের কাছে বড়সড় ধাক্কা ছিল। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর ২০ জুন ২০২৬ থেকে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।




