তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, সোমবারের তারিখ উল্লেখ করে ওই তালিকা পাঠানো হয়েছে দিল্লির নির্বাচন সদনে। কালীঘাট শিবিরের দাবি, দলের নিয়ন্ত্রণ যে এখনও মমতার হাতেই রয়েছে, সেই বার্তাই দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাচক্রে, একই দিনে নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে পাল্টা কর্মসমিতির ঘোষণা করে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের গঠিত এই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নাম নেই। ওই শিবিরের চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে।
‘বিদ্রোহী’ শিবিরের কর্মসমিতি ঘোষণার আগেই মমতা নির্বাচন কমিশনে তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই, ওদের ভালো হোক’।
অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের প্রকাশিত তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। ৫ জুন কালীঘাটে বৈঠকের পর এই নতুন কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে একাধিক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে অরূপ বিশ্বাসকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক করা হলেও তিনি ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বৈঠকে ছিলেন বলে খবর।‘
যুব সংগঠনের প্রেসিডেন্ট পদে সায়নী ঘোষ এবং মহিলা শাখার প্রেসিডেন্ট পদে মালা রায়ের নাম ছিল আগের তালিকায়। তবে এখন এই দুইজনই ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে নতুন কর্মসমিতি থেকে এই বিদ্রোহীদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সেখান নতুন করে নাদিমুল হকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের ঘোষিত কমিটিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। সহ-সভাপতি ও অন্যান্য পদেও একাধিক নেতা রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। কালীঘাট শিবিরের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে সুব্রত বক্সী, যুগ্ম সম্পাদক পদে ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন এবং রাজ্য সভাপতি পদে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাম রয়েছে।




