৭৫ বছরে পদার্পণ করল সুবুদ্ধিপুর বেলতলা সার্বজনীন পূজা কমিটির দুর্গাপুজো। দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে ঐতিহ্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে এখানে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা। বারুইপুরের এটা সবথেকে পুরোনো পুজোগুলির মধ্যে একটি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেখানে বিভিন্ন পুজো কমিটি থিমের পুজোয় আকর্ষণ তৈরি করছে, সেখানে সুবুদ্ধিপুর বেলতলার পুজোর মূল বৈশিষ্ট্যই হল সাবেকিয়ানা। প্রতিমা থেকে মন্দিরের সাজসজ্জা, সবেতেই রয়েছে প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
সুবুদ্ধিপুর বেলতলা সার্বজনীন পূজা কমিটির সেক্রেটারি অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, মুকুল মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রথম দিকে একটি ছোট গাছের তলায় শুরু হয়েছিল দেবী দুর্গার আরাধনা। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ ৭৫ বছরের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আগে প্যান্ডেল করে দুর্গাপুজো করা হত। বর্তমানে এখানে একটি পাথরের মন্দির তৈরি করা হয়েছে।
ওই মন্দিরেই নিয়ম-নিষ্ঠা ও সমস্ত আচার মেনে পূজিত হন মা দুর্গা। বর্তমানে মন্দিরটিকেই সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়। পুজোর সময়ে মন্দিরের পাশাপাশি থাকে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। তবে সাজসজ্জায় আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও পুজোর মূল ঐতিহ্য ও সাবেকি রীতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রতিমার পিছনে থাকা চালাটিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেবী দুর্গার বিসর্জন হয়ে গেলেও সারা বছর সেই চালাকে পুজো করা হয়।
বারুইপুরের এই পুজোকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবেগও যথেষ্ট। পুজোর সময়ে পরিবারের যেসব সদস্য কাজের সূত্রে বা অন্য কারণে বাইরে থাকেন, তাঁরাও এই সময়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। ফলে এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, পরিবারের সদস্যদের মিলনক্ষেত্রও হয়ে ওঠে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী, পুজোর এই তিন দিনই মায়ের ভোগ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
তবে অষ্টমীর দিন বড় করে ভোগের আয়োজন করা হয়। পুজোর শেষ দিন অর্থাৎ দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। ৭৫ বছরের এই যাত্রাপথে সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর আয়োজনের ধরন। তৈরি হয়েছে স্থায়ী মন্দির। কিন্তু সাবেকি ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান এবং মানুষের আবেগ কিছুই বদলায়নি। সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই এ বছরও দুর্গাপুজোয় মাতবে সুবুদ্ধিপুর বেলতলা সার্বজনীন পূজা কমিটি।