বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘােষের মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারের বিরুদ্ধে এক বিবৃতিতে রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য আমমদ হাসান (ইমরান) জানিয়েছেন, “ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘােষ শনিবার (২১ নভেম্বর,২০২০) এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমার নাম উল্লেখ করে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছেন।
দিলীপ ঘােষ বলেন, ‘হাসান ইমরান’ বা ইমরান হাসান বাংলাদেশ থেকে অসম হয়ে এ রাজ্যে এসেছিলেন। তিনি বাংলার লােক হয়ে গেলেন? তিনি এখানকার সমর্থনে সাংসদ হয়েছিলেন। তিনি সিমির প্রতিষ্ঠাতা।’ আমার সম্পর্কে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘােষের এই মিথ্যা, কল্পিত বক্তব্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণােদিত কুৎসা প্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমার জন্ম ১৯৫৩ সালে জলপাইগুড়ি জেলার মাল থানার অন্তর্ভুক্ত। মালনদী চা বাগানে আমি মালনদী চা বাগানের প্রাইমারি স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে প্রাইমারি পরীক্ষায় পাশ করি। তারপর ১৯৭২ সালে আমি ওয়েস্টবেঙ্গল বাের্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করি। এই দুই সার্টিফিকেটও আমার কাছে রয়েছে। সেই সময় বার্থ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রচলন ছিল না।
দিলীপ ঘােষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েও সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করে চলেছেন। আমি কখনােই অসমের কোথাও ছিলাম না। বাংলাদেশেও নয়। আমার পিতা যে ১৯৩৭ সাল থেকে জলপাইগুড়ির রহিমিয়া চা বাগানে চাকুরি করতেন,B আমি যখন ছাত্র সংগঠন ‘সিমি’র সদস্য ছিলাম, সে সময় সিমি কোনাে নিষিদ্ধ সংগঠন ছিল না। তারা কোনাে বেআইনি কাজও ক্ষে সময় করত না।
আমি ১৯৮৩ সালের প্রথম দিকে সিমির সদস্যপদ ত্যাগ করি। সিমি নিষিদ্ধ হয় তার বহু বছর পর ২০০১ সালে। একজন ভারতীয় নাগরিককে বিদেশি বা বহিরাগত আখ্যায়িত করে শ্রী দিলীপ ঘােষ আমার সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার খর্ব করেছেন। তার বক্তব্যে আমার সম্মানহানিও ঘটেছে। বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি সংখ্যালঘুদের অনুপ্রবেশকারী’ বা ‘বাংলাদেশি’ বানানাের যে পরিকল্পনা দিলীপ ঘােষের দল বিজেপি রয়েছে, আমি মনে করি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার তারই অংশ বিশেষ।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শ্রী দিলীপ ঘােষকে বলব, তার কাছে যদি আমার ‘বহিরাগত’ বা ‘বিদেশি ’ হওয়ার কোনাে প্রমাণ থাকে, তবে তা তিনি জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। আর তা না হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিলীপ ঘােষ সংবাদমাধ্যমে তার ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করুন। অন্যথায় আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”




