বুধবার ভোরে হাওড়ায় শুটআউট।‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হল এক যুবককে। গোলাবাড়ি থানা এলাকার পিলখানায় গুলি করে খুন করা হয়েছে সৌফিক খান নামে এক ব্যক্তিকে। যিনি এলাকায় প্রোমোটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরের দিকে একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন সৌফিক। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাঁর সঙ্গে দুই যুবক কথোপকথনের মাঝেই আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়।
Advertisement
অভিযোগ, প্রথম গুলির পর আরও এক দফা গুলি চালানো হয়। মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, সৌফিকের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। সেই টাকা না-দেওয়ায় তাঁকে গুলি করা হয়েছে। পুরনো শত্রুতার জেরে খুন বলে দাবি পরিবারের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
Advertisement
নিহতের পরিবারের দাবি, হারুন খান ও রোহিত নামে দুই যুবক এই হামলায় জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, টাকার লেনদেন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বিবাদ চলছিল। সেই শত্রুতার জেরেই এই খুন। যদিও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গুলির খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ওই এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ রুস্তম। তিনি জানান, সামনে বিধানসভা নির্বাচন।
এর আগে দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক বিবাদের ইঙ্গিত মিলেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভোট বয়কটের কথা বলছেন স্থানীয়েরা।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা উমেশ রাই দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের একজন হারুন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা এবং উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। অন্য অভিযুক্ত রোহিত অস্ত্র ডিলার। জেলখাটা আসামী।
খুন হওয়া সৌফিকের সঙ্গে স্থানীয় অপরাধ গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।বিধায়কের মদতে এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গৌতম। বিধায়ক বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহু মানুষ থাকেন, সবার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড জানা সম্ভব নয়। তিনি এলাকায় শান্তি ফেরাতে প্রশাসনের সক্রিয়তার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, এর আগেই কলকাতার তিলজলা রোডে গুলির ঘটনা ঘটেছিল। বেনিয়াপুকুর থানা এলাকায় কয়েক জন স্থানীয় যুবক এবং মহম্মদ নিয়াজ ওরফে রাজা নামে বছর তেইশের এক যুবকের মধ্যে অশান্তি হয়। সেই অশান্তির জেরেই রাতে রাজাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ায় এই খুনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Advertisement



