রাজ্যের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নবান্ন। অর্থ দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য বুধবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে।
অর্থ দপ্তরের অডিট শাখার নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আগে থেকেই কর্মীদের প্রাপ্ত ডিএ ও ডিআরের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছিল। এবার সেই তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নবান্নে বিকেল ৪টেয় এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর যেমন- উচ্চশিক্ষা দপ্তর, স্কুল শিক্ষা দপ্তর, জনশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তর, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর, পরিবহন দপ্তর এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
প্রতিটি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান বা হিসাব শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং আর্থিক উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রয়োজনে অন্য কোনও আধিকারিককেও সঙ্গে আনা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব।
Advertisement
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিএ বকেয়া ইস্যুতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে শুরু করেছে অর্থ দপ্তর। এসওপি জারি করে একটি পোর্টাল তৈরি করে বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই ডিএ নিয়ে আবার কিছু অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীদেরই ডিএ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী-সহ বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ডিএ পাওয়ার অধিকারী এবং ২০২৬ সালের মার্চ থেকে তা প্রদান শুরু হবে। তবে বাস্তবে এখনও সব ক্ষেত্রের কর্মীরা বকেয়া পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
Advertisement



