• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 18 June, 2026

ঋতব্রত নাকি শোভনদেব, বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নজর হাইকোর্টে

বিধানসভা অধিবেশনের আগে আজই গুরুত্বপূর্ণ রায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধিবেশন শুরুর আগের দিনই বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা নতুন মাত্রা পেল। তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি শেষ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, তাদের ৮০ জন বিধায়কের সমর্থনে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই মর্মে গত ১৩ মে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও তাঁকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।মামলার শুনানিতে বারবার উঠে আসে বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, ১৩ মে প্রস্তাব পাওয়ার পরও কেন অধ্যক্ষ ৩ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন এবং পরে কী কারণে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।

অধ্যক্ষের পক্ষে আদালতে জানানো হয়, প্রথমে জমা পড়া নথিপত্রে একাধিক অসঙ্গতি ছিল। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী যে বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার রেজোলিউশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

পরে ৩ জুন বিরোধী শিবিরের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন সশরীরে অধ্যক্ষের কাছে উপস্থিত হয়ে নিজেদের সমর্থনের কথা জানান। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই বিরোধী দলনেতা এবং চিফ হুইপ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রশ্ন তোলেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কার। তাঁর বক্তব্য, কোনও বহিষ্কৃত বা সাধারণ বিধায়ক নয়, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের অনুমোদিত নেতৃত্বই বিরোধী দলনেতা নির্ধারণ করবেন। সেই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে অন্য কাউকে স্বীকৃতি দেওয়া কতটা আইনসম্মত, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

শুনানির সময় বিচারপতি আরও জানতে চান, প্রথম প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছিল কেন। জবাবে অধ্যক্ষের আইনজীবী জানান, স্পিকারের কাছে আসা অভিযোগ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের অবস্থান বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এখন নজর বৃহস্পতিবারের রায়ের দিকে। হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত শুধু বিরোধী দলনেতার পদ নিয়েই নয়, বিধানসভার সাংবিধানিক রীতি, স্পিকারের ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের বৈধতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।