নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর রেকর্ড ভাঙলেন হাসিরানি, রেজিনগরে বিজেপির বড় জয়

Image: IANS

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে (Bypoll) বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিল বিজেপি। নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আগের জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, মুসলিম-অধ্যুষিত রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭২ হাজার ৭১০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। দুই কেন্দ্রের ফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোটের গতিপ্রকৃতি এবং বিরোধীদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নন্দীগ্রামে হাসিরানি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩। এর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী ৮১ হাজার ২৩০ ভোটে জিতেছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু জিতেছিলেন ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে। উপনির্বাচনে (Bypoll) হাসিরানির জয় সেই ব্যবধানগুলিকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘এরা ঠিক মতো ছাপ্পাও মারতে পারে না’, উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে খোঁচা মমতার


রাজ্যে পালাবদলের পর ফলতায় পুনর্নির্বাচনে বিজেপি ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জয়ী হয়েছিল। নন্দীগ্রামের ফল সেই ব্যবধানও ছাপিয়ে গিয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া মহিলারা ধর্ম নির্বিশেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে প্রায় ৭০ হাজার ৩০০ এবং রেজিনগরে প্রায় ৭০ হাজার অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা মহিলা বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রেজিনগরে প্রায় ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু মুসলিম মহিলা ওই প্রকল্পের সুবিধা পান বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রেজিনগরের ফল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ। অতীতে এই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দিকে থাকত বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল। কিন্তু এবার বিজেপির প্রার্থীর বড় ব্যবধানে জয় সেই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুভেন্দুর বক্তব্য, বিভাজনের রাজনীতির পথে না হেঁটে ভোটারেরা উন্নয়নের স্বার্থে সরকারকে সমর্থন করেছেন। তিনি একে ‘বন্ধুত্ব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

আরও পড়ুন: ‘রাহুল গান্ধীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও কিছু হবে না’, কংগ্রেসকে মরা দল বলে কটাক্ষ শুভেন্দুর

তবে এই ফল নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিও রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটলুটের মাধ্যমে বিজেপি জয় পেয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া, ভোটের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নও অব্যাহত রয়েছে। সেই অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু বলেছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী  হয়েছিলেন। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকে জিতে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন (Bypoll) হয়। দুই কেন্দ্রের ফল এখন রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=5COSiws3HvodyxBI” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>