হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার

সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এরই মাঝে তৃণমূলের বিধায়ক থেকে মন্ত্রী অনেকেরই দেখা মিলেছে কলকাতা হাইকোর্টে। তৎকালীন সরকার ক্ষমতা থেকে সরতেই একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে গিয়ে পৌঁছেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজিত বসু, ইন্দ্রনীল সেন ও সব্যসাচী দত্ত। এবার সেখানে পৌঁছলেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস রঞ্জন ভুঁইয়া।

বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে দারস্থ হলেন মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, মিথ্যে মামলায় তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে,  তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অবিলম্বে আদালত যাতে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং তাঁর রক্ষাকবচের আবেদন মঞ্জুর করে এদিন আদালতে সেকথা জানান সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক মানস ভুঁইয়াকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। টাকা বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সবং থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি-সহ কোনও কড়া পদক্ষেপের আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষাকবচের আবেদন করেছেন।


অভিযোগকারী এক যুবকের দাবি, তাঁর স্ত্রীকে একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চলতি বছরের ১ মার্চ তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগ দেন। প্রথম মাসে ১০ হাজার ৭৪৭ টাকা বেতন পান। অভিযোগকারীর দাবি, দু’মাসের মধ্যে গত ৬ মে, তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চাকরি বাতিলের নির্দেশের কপিও পাঠানো হয়েছিল।

চাকরি হারানোর ফলে তাঁর স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। ঘটনায় সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ এফআইআর রুজু করে। জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্রে মানস ভুঁইয়ার পাশাপাশি আরও দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।