চলতি মাসের শুরুতেই মাছ ধরতে সমুদ্রে ভেসেছিল ‘মা কালী’ নামে একটি ট্রলার। ওই ট্রলারে ছিলেন ১৫ জন মৎস্যজীবী। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও ফেরেনি ট্রলারটি। এমনকী, ওই ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি উপকূলরক্ষীবাহিনীকে জানানো হয়েছে। উপকূল থানার পুলিশকেও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। নিখোঁজ ট্রলারের খোঁজ চলছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে বুধবার রাতেই শঙ্করপুর মৎস্যবন্দরে যান মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। মন্ত্রী নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। মন্ত্রীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। পুলিশ সুপারও উপকূল থানার পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘মা কালী’ নামে নিখোঁজ ট্রলারটির মালিক অভিজিৎ বেরা। তিনি রামনগর থানার দেউলিবাংলা এলাকার বাসিন্দা । এলাকার অন্য মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শুরুতেই মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যায় মা কালী নামে ওই ট্রলারটি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ট্রলারটির আর ফিরে আসেনি। এমনকী, ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করাও যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই বিষয়টি শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনকে জানানো হয়েছে। জানানো হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদেরও।
অন্যদিকে শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়েক জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি প্রশাসন ও এলাকার বিধায়ক এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীকেও জানিয়েছেন। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও সংগঠনের তরফে আবেদনও জানানো হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিকর্তা সুমন সাহা জানিয়েছেন, ট্রলার নিখোঁজের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং উপকূল থানার পুলিশ তল্লাশি চালাতে শুরু করেছে। সমুদ্রে থাকা অন্য ট্রলারগুলিকেও বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই নিখোঁজ ট্রলারটির সন্ধান মিলবে।




