• facebook
  • twitter
Monday, 6 April, 2026

১০৫ বছরে চিরবিদায়, প্রয়াত পদ্মশ্রী চিকিৎসক মণি ছেত্রী

রবিবার রাত ১০ টা ১৫ নাগাদ বালিগঞ্জের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শতায়ু চিকিৎসক

প্রয়াত প্রবীণ চিকিৎসক মণিকুমার ছেত্রী।  রবিবার রাত ১০ টা ১৫ নাগাদ বালিগঞ্জের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শতায়ু চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছেদিন পনেরো আগে বালিগঞ্জের বাড়িতে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি। ভর্তি ছিলেন শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

মণিকুমারের জন্ম ১৯২০ সালে ২৩ মে দার্জিলিং জেলার তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত তিস্তা ভ্যালি টিই‘-র এক গোর্খা পরিবারে। এরপর দার্জিলিং মিউনিসিপ্যাল প্রাইমারি স্কুল এবং টার্নবুল হাই স্কুলে তিনি প্রাথমিক পড়াশোনা করেন। ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর কলকাতার সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ভর্তি হন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

Advertisement

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএসএমডি ও পরে লন্ডন থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তাঁর মেধাচিকিৎসাগত জ্ঞান ও মানবিক বোধ তাঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।মণিকুমার ছেত্রী লন্ডন থেকে ফিরে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে কর্মজীবন শুরু করেন। যোগ দেন রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে। পরবর্তীকালে কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালে নিয়োগ করা হয় তাঁকে।

Advertisement

প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালেরই বর্তমান নাম এসএসকেএম। এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন সার্জেন সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন তিনি। সামলেছেন এসএসকেএম-এর ইনস্টিটিউ অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের কার্ডিওলজি (আইপিজিএমইআর) এবং মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডিরেক্টরের দায়িত্বও। বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজি এবং আইপিজিএমইআর এবং এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তাও ছিলেন তিনি। সামলেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তারও দায়িত্বও। এক সময় তিনি প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর চিকিৎসক ছিলেন।

চিকিৎসক মণি ছেত্রীর হাত ধরেই এসএসকেএম হাসপাতালে তৈরি হয় ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট তথা আইটিইউ সেটআপ। এনডোক্রিনোলজিকার্ডিওলজিনেফ্রোলজিডায়াবিটিসরিউম্যাটোলজির মতো আলাদা আলাদা বিভাগ চালু হয়। যা পশ্চিমবঙ্গের কোনও হাসপাতালে প্রথম।  ১৯৭৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী‘ সম্মানে ভূষিত করে। এসএসকেএম হাসপাতালের রোনাল্ড রস বিল্ডিংয়ে মেডিসিন বিভাগে তাঁর নামে একটি কেবিনও আছে। মণিকুমারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম। 

Advertisement