• facebook
  • twitter
Friday, 9 January, 2026

আইপ্যাকের দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযান নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করল ইডি

মামলা দায়ের করতে চেয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা। অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা

প্রতীকী চিত্র

আইপ্যাকের দপ্তর এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি বৃহস্পতিবার সকালে থেকে তল্লাশি চালায় ইডি। খবর চাউর হয় কিছুক্ষণের মধ্যেই। প্রতীক জৈনের বাড়ি পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর আইপ্যাকের সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের দপ্তরে যান মমতা। বাড়ি ও অফিস থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ ফাইল নিয়ে যান মমতা। সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আইপ্যাকের দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার অভিযান নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করল ইডি।

মামলা দায়ের করতে চেয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা। অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকের দপ্তরে ইডির তল্লাশির মধ্যেই যান মমতা। হাতে ফাইল এবং ল্যাপটপ নিয়ে তাঁকে বেরোতে দেখা যায়। মমতা সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, তাঁর দলের রাজনৈতিক কৌশল ছিনতাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের নেপথ্যে বিজেপিকে দায়ী করেন তিনি। দাবি করেন, ইডির অভিযান অগণতান্ত্রিক এবং অন্যায়।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে ইডি। সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে দু’টি জায়গা থেকে নথি ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর হাই কোর্টে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থা।ইডির আধিকারিকেরা যখন আইপ্যাক দপ্তর এবং প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, তখনই মমতা প্রবেশ করেন এবং ফাইল, ল্যাপটপ নিয়ে নিজের গাড়িতে তুলে রাখেন। ইডি আধিকারিকেরা কি তাঁকে বাধা দেননি? তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আদৌ যোগাযোগ করেছিলেন? কারণ এটা স্পষ্ট যে, মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত অনেক পরে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ইডি সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘ইডির সদর দপ্তরে ইউনিট আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অনুপ মাজি কয়লা পাচারের সিন্ডিকেট চালাতেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করে বেআইনি ভাবে কয়লা বাইরে পাঠাতেন। শান্তিপূর্ণ ভাবেই তল্লাশি অভিযান চলছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রশাসনের আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের নিয়ে সেখানে চলে আসেন এবং জোর করে নথি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নিয়ে চলে যান।’

ইডি আরও জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি অভিযান তথ্যপ্রমাণভিত্তিক এবং কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়নি। কোনও পার্টি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশির সঙ্গে কোনও নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। সাধারণ আর্থিক তছরুপ মামলার বিরুদ্ধে এই অভিযান ছিল। আইন মেনে তল্লাশি‌ চলছে।মমতা বিকেল ৪টে ২২ মিনিট নাগাদ সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরিয়ে যান।

 

Advertisement