• facebook
  • twitter
Thursday, 2 April, 2026

অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী

মালদহের কালিয়াচকে অশান্তির ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মালদহের কালিয়াচকে অশান্তির ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার জেরে পদত্যাগ দাবি করলেন শাহর। একই সঙ্গে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় নিশানা করে বললেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যপালের সাহায্যে রাজ্যে একটা ‘সুপার’ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে কমিশন। মানুষকে বিজেপির পাতা ফাঁদে পা না দেওয়ার পরামর্শ দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

সরাসরি মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির নাম করে বললেন, নির্বাচনের সময় হায়দারাবাদ থেকে এসে একজন উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র হুমায়ুন কবীরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বললেন, বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল, সেখানেই হবে, অন্য কোথাও নয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, মমতার সরকার দুর্নীতির রেকর্ড গড়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে সাগরদিঘির ধূমারপাহাড়ে নির্বাচনী জনসভায়  আরও একবার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তুলধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির ধূমারপাহাড় এলাকায় তিনি সভা করেন। সাগরদিঘির সভা থেকে তিনি মালদহের কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা বিজেপির গেমপ্ল্যান। বিজেপি চায় নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে।’ মুর্শিদাবাদেরই সুতির সভায় সুর আরও এক ধাপ চড়িয়ে অমিত শাহকে সরাসরি ‘চক্রান্তকারী’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘বিজেপি অনেক পরিকল্পনা করেছে। তাদের সব ধরনের মদত জোগাচ্ছে মোদী সরকার। গোটা পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছেন অমিত শাহ। বুধবারের অশান্তিতে কংগ্রেসের যোগসূত্র থাকলেও পুরো ঘটনাই বিজেপির সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা।’ বাংলার জনবিন্যাস নিয়ে শাহর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আপনি বাংলার জনবিন্যাস সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

তারপরেও বলছেন, বাংলার জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। আমি এই অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ। তিনি আমাদের দেশকে ধ্বংস করেছেন। এই পুরো বিপর্যয়টা নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে ঘটিয়েছেন অমিত শাহ।’ একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে তৃণমূল সুপ্রিমোর পরামর্শ, বিজেপির পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। ওরা চায় অশান্তি পাকিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে। তাই ওদের প্ররোচনায় পা দেবেন না।

মালদহের ঘটনা প্রসঙ্গে সাগরদিঘির সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর কাছ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে  কোনও কিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। মালদহের ঘটনায় তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি। কমিশনের তরফে একের পর এক আধিকারিক অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রাজ্যের বদনাম করা হচ্ছে। নতুন মুখ্যসচিব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। এমনকী, বিষয়টি আমাকেও জানাননি।

দেখেছেন তো, যাঁদের নিযুক্ত করছেন, তাঁরা কেমন কাজ করছেন? যাঁরা আসলে কাজ করতেন, তাঁদের তো ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা রাজ্যটাকে চিনতেন, জানতেন। সবাই সব কিছু পারে না। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন পরিচালিত প্রশাসন। এটা লজ্জার।’ মালদহের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।

মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, ‘ঠিক বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।’ তার পরেই আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি জানেন না, যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই করেছে, এনআইএ করেছে?’ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে যে বিক্ষোভ চলছে তাকে  মানুষের ‘ন্যায্য ক্ষোভ’ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তৃণমূল সুপ্রিমোর পরামর্শ, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে কেউ আইন নিজেদের হাতে তুলে নেবেন না।

লড়াইয়ের রাস্তাটা বন্ধ করে দেবেন না। রাজ্যের বদনাম হয়েছে। আপনারা কি চান আমি অপমানিত হই? পাশাপাশি তাঁর উপর ভরসা রাখার জন্য আবেদনও জানান। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁরা আবেদন করুন। আমরা আপনাদের হয়ে ট্রাইব্যুনালে লড়ব। আমরা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেব। আপনাদের কাউকেই আমি বার করতে দেব না। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে দেব না।’

 বিজেপির পাশাপাশি নাম না করে মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক তথা নবগঠিত ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রধান হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে কেউ হায়দরাবাদ থেকে এসে এখানে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি একটা গদ্দারকে টাকা দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করছে।’ উল্লেখ্য,  ওয়েইসি মূলত হায়দরাবাদেরই রাজনীতিক। তাঁর এবং হুমায়ুনের দল এই ভোটে জোট বেঁধে লড়াই করছে। ‘গদ্দার’ শব্দে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে হুমায়ুনকেই নিশানা করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‘চক্রান্ত না করে সরাসরি ভোটের ময়দানে নামুন। গায়ের জোরে মানুষের নাম কেটে আপনি ভোট করবেন ভাবছেন। ক্ষমতা থাকলে সামনাসামনি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করুন, খেলা হবে।’ মমতা যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছেন, তখন শাহ পাল্টা বলেছেন, ‘ভবানীপুরে জিতিয়ে দিলেই গোটা বাংলায় পরিবর্তন আসবে। মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে। সে কারণেই ভবানীপুরে লড়ছেন শুভেন্দু। এবার মমতা ভবানীপুরে হারবেন। রাজ্যে হারবে তাঁর দল। কারণ বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে।’

তৃণমূল সুপ্রিমো এদিন অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর পর ওরা এনআরসি নিয়ে আসবে। তারপর ডিলিমিটেশন হবে। সমস্ত সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন না, আর কৃষক বন্ধুর সুবিধাও পাবেন না। বিজেপি সবকিছু বন্ধ করে দেবে। ওরা আপনাদের মাছ ও মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। তাই বাংলাকে বাঁচাতে হিন্দু ও মুসলিম সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

Advertisement