মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী সরকারি অনুদান ও ভাতা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছিল, দুর্গাপুজোর জন্য দেওয়ার সরকারি অনুদানও কি বন্ধ হয়ে যাবে?
শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দুর্গাপুজোর অনুদান পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না। তবে যে সব ক্লাব বা পুজো কমিটি এই আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে, তারাই অনুদান পাবে। অন্যদিকে, যেসব বড় ক্লাবের নিজস্ব তহবিল এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের আর সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদান চালু করেছিলেন। সেই সময় রাজ্যের প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। সরকারি অর্থ এইভাবে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের তরফে সমালোচনা হলেও রাজ্য সরকার সেই প্রকল্প চালিয়ে যায়। বরং বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনুদানের পরিমান বাড়তে থাকে।
২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল, কয়েক কোটি টাকার বাজেট নিয়ে পুজো করা বড় ক্লাবগুলোকেও কেন সরকারি অর্থসাহায্য দেওয়া হবে। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে সেই বিতর্কেরই যে প্রতিফলন দেখা গেল।




