পশ্চিমবঙ্গে এখন পালাবদল হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। রাজ্য সরকারের জমি নীতি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে শিল্পে জোয়ার আসে। তার জেরেই বেড়ে উঠবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। আর পশ্চিমবঙ্গে শিল্পে যে জোয়ার আসতে চলেছে বলে বারবার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যে বস্ত্রশিল্পে নতুন করে গতি আনতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এবার বন্ধ কয়লাখনির জমিতে রেশম চাষের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খনির জমিতে রেশমের সুতো তৈরি এবং কাপড় উৎপাদন, গোটা প্রক্রিয়াকে একটি শিল্প ইকোসিস্টেমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে শনিবার জামুরিয়া শিল্পতালুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে এসে জানান কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং।
এদিকে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছেন। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য মিললে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পে জোয়ার আসবে। কর্মসংস্থানের ফোয়ারা হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের দাবি, ‘কেন্দ্রের নতুন নীতি এবং বস্ত্রশিল্পের হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আসতে পারে। তৈরি হতে পারে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কারখানা যেভাবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে সেটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন, শিল্পের প্রতিকূল পরিবেশ এবং পরবর্তী সময়ে কাটমানি, তোলাবাজির সংস্কৃতির জেরে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজ্য ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে। প্রায় ৫০ বছরের অব্যবস্থা ও দুর্নীতির সংস্কৃতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।’
অন্যদিকে কলকাতা থেকে শুরু করে জেলায় সরকারি-বেসরকারি নিয়োগ খুব শীঘ্রই হতে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে অতীতের খরা কাটিয়ে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী। গিরিরাজ সিং বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিল্পনীতি এবং বস্ত্রশিল্পের প্রসারের মাধ্যমে রাজ্যে আবার বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। কৃষির পরই সবথেকে বেশি কর্মসংস্থানের জায়গা বস্ত্রশিল্প। বস্ত্রশিল্পে প্রত্যেক এক কোটি টাকা বিনিয়োগ হলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তাই শিল্পের প্রসার ঘটলে রাজ্যের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।’
তাছাড়া বস্ত্রশিল্পের প্রসার ঘটাতে জমি প্রয়োজন। সেটাতেও তেমন কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী। গিরিরাজ সিংয়ের কথায়, ‘বন্ধ কয়লাখনি বা খনির জমিকে কাজে লাগিয়ে রেশম শিল্পের পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চাষ থেকে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহার করে রেশমের সুতো তৈরি এবং পরবর্তী পর্যায়ে কাপড় উৎপাদন করে সম্পূর্ণ শিল্পক্লাস্টার গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। জমি থেকে কাঁচামাল উৎপাদন, সুতো তৈরি এবং বস্ত্র উৎপাদন, গোটা প্রক্রিয়াই একই ইকোসিস্টেমের মধ্যে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’




