ফলতায় পরাজিত হওয়ার পর এবার চরম অস্বস্তিতে ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার আদালত তাঁর সমস্ত অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচের মেয়াদ ছিল। সেই মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে রক্ষাকবচের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ায় নতুন করে আর কোনও রক্ষাকবচ দিল না আদালত। সুতরাং, জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়ায় আর কোনও আইনি বাধা থাকছে না বলে জানানো হয়েছে আদালতের তরফে।
২০১৯ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আগাম সুরক্ষা পেয়েছিলেন ফলতার এই তৃণমূল নেতা। সেই রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হচ্ছে বুধবার। সেকারণেই এদিন মামলাটি ফের আদালতে ওঠে। এর পাশাপাশি ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গির খান আরও একটি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। সেই মামলাটিও হাইকোর্টে ওঠে এদিন। রাজ্য পুলিশের তরফে রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে। আরও একটি মামলায় আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ নিয়েছিলেন তিনি।
Advertisement
এদিন আদালতে পার্থসারথি সেনের পর্যবেক্ষণ ছিল, ভোট সংক্রান্ত পরিস্থিতির জন্য সেই অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পরেও দীর্ঘদিনের জন্য এই রক্ষাকবচ বহাল রাখার কোনও যুক্তি নেই। রাজ্য পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্টে জানানো হয়, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকা উচিত নয়। আদালতও সেই মতকে গুরুত্ব দিয়ে রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
Advertisement
অন্যদিকে জাহাঙ্গিরের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের সময় বাড়ানো হোক ৷ মামলাকারীর বক্তব্য শোনা হোক ৷ কারণ শেষ নির্দেশে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছিলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক মামলা দায়ের হয় জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ৷ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তারি এড়াতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে এবার সেই সুরক্ষা আর থাকছে না।
এর আগে গত ১৮ মে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জাহাঙ্গির খানকে রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। ২১ মে ফলতা কেন্দ্রে যে পুনর্নির্বাচন ছিল, সেখানে তিনি তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে তিনি ভোটে না লড়ার ঘোষণা করেছিলেন। পরে রবিবার নির্বাচনের ফলাফলে তাঁর প্রাপ্ত ভোটও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। হাজার সাতেকের মতো ভোট পেয়ে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এখন আদালতের এই নির্দেশের পর তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



