ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল একেবারে প্রকাশ্যে চলে এল। রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংকে নিশানা করে সরাসরি তোপ দাগলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচী। টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তরা অর্জুন সিংয়ের মঞ্চ আলো করে বসে আছে। মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্তরা বিজেপির মঞ্চে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৌস্তভ। সেটা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই জোর চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ওই দুই খুনে অভিযুক্ত বিজেপিতে নাম লেখালে আত্মহত্যা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিলেন কৌস্তভ বাগচী। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ২০২০ সালে টিটাগড়ের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে খুন হন মণীশ শুক্লা। এই নিয়ে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনার তদন্তে উঠে আসে মণীশ শুক্লাকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করা হয়েছে। আর তাতে নাম জড়িয়ে যায় ব্যারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী। কৌস্তভের দাবি, তখন শাসক শিবিরে থাকার জেরে উত্তম বা প্রশান্তর কোনও শাস্তি হয়নি। কৌস্তুভ কারও নাম করেননি। তবে কৌস্তভ বলেন, ‘আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লার হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে। এগুলো দেখতে ভাল লাগছে না। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন পুর প্রধান আর প্রাক্তন পুরপ্রধান টিটাগড়কে বিজেপিতে ঢুকতে দেব না, দেব না, দেব না। আমার রাজনৈতিক দৃঢ়তা সবাই জানেন। সাড়ে তিন বছর মাথা কামিয়ে রেখেছিলাম। অনেকে বিদ্রুপ করেছিল। বলেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার না গেলে মাথায় চুল রাখব না। দরকারে বিজেপির রাজ্য অফিসের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেব। আমি জানি কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।’
অন্যদিকে নির্দিষ্ট করে কৌস্তভ অবশ্য কারও নাম নেননি। তবে মণীশ শুক্লা হত্যা কাণ্ডে অভিযুক্ত উত্তম-প্রশান্তের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দেন কৌস্তভ। কৌস্তুভের বক্তব্য, ওই ঘটনায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদেরই এখন ‘আমাদের লোকেদের’ পাশে দেখা যাচ্ছে। অর্জুন সিং এখন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী। তার উপর ব্যারাকপুর খুব ভালভাবে চেনেন অর্জুন। সেখানে অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে এভাবে মুখ খোলায় মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারেন। তার উপর কোনও বিধায়ক প্রকাশ্যে আত্মহত্যার কথা বলায় সেটা চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উটে এসেছে।
তাছাড়া নতুন করে মামলা কেমন করে এগোনো যায় সেটার প্রক্রিয়াও কৌস্তুভ চালাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া তরান্বিত করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তো বটেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি সিআইডি এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকেও চিঠি লিখছেন তিনি বলে জানিয়েছেন। এভাবেই ব্যারাকপুরের বিজেপির অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। কৌস্তুভ কার্যত অর্জুনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।




