• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 12 July, 2026

দ্বিতীয়বার বদল তদন্তকারী অফিসার, বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নয়া মোড়

বারুইপুর গণধর্ষণ-খুনের শিকার নাবালিকার পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে রাজ্য সরকার

দ্বিতীয়বার বদল তদন্তকারী অফিসার, বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নয়া মোড়

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এবার নয়া মোড়। এই মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদল করা হলো। এই গণধর্ষণ-খুনের তদন্তের গতি বাড়াতে এবার মামলার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বারুইপুর পুলিশ জেলার ডিএসপি শান্তনু মুখোপাধ্যায়কে। আগের তদন্তকারী অফিসারের বদলে এখন থেকে তিনিই এই মামলার সম্পূর্ণ তদারকি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবেন। শনিবার বারুইপুরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাহায্য এবং সুবিচারের আশ্বাস দেন তিনি। তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গেও সেদিন কথা বলেছিলেন।

আর রবিবারই তদন্তকারী অফিসার বদল হয়ে গেল। মৃত নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে তদন্ত নিয়ে কোনও কথা বলে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এই অফিসার বদল নিয়ে তেমনটাই মনে করছেন বারুইপুরের আমজনতা। যদিও এই মামলার তদন্তকারী অফিসার প্রথম বদল হলো এমন নয়। এটা দ্বিতীয়বার বদল হলো। প্রাথমিকভাবে বারুইপুর গণধর্ষণ-খুনের তদন্তভার ছিল জেলা পুলিশের আধিকারিক দিগন্ত মণ্ডলের হাতে। পরে সেই মামলায় তদন্তকারী অফিসার বদল করে নিয়ে আসা হয় বারুইপুর থানার প্রাক্তন আইসি জয়ন্ত পোদ্দারকে। এবার তাঁকে বদল করে এই তদন্তভার দেওয়া হল শান্তনু মুখোপাধ্যায়কে।

বারুইপুর গণধর্ষণ-খুনের শিকার নাবালিকার পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে তার পরিবারের একজনকে রাজ্য সরকারি চাকরি দিল নবান্ন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে এনকাউন্টার করা হয়েছে। সুতরাং নারী নির্যাতনে এবং অপরাধে রাজ্য সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে সেটা স্পষ্ট। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলার সবদিক নতুন করে খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এক অভিযুক্ত পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার বিষয়ে পৃথক তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

তাছাড়া নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন নাবালিকার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। ওই পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা কোনওভাবেই ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের থেকে কম নয়। তাই সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ নাবালিকার পরিবারকে দেওয়া সরকারের কর্তব্য। যদিও তিনি এই কথা বাইরে বলেননি। বরং মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখানে একটি ছোট্ট মেয়েকে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে। পরিবারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ যে ওঁরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম থেকেই পরিবারের পাশে আছি। যে চারজনের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কেউ বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়েও গিয়েছিল। তাকে ধরে আনা হয়েছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ ভাল কাজ করেছে।’