• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 4 June, 2026

২৬৭ জন আধিকারিক বদলি নিয়ে পদ্ধতিগত প্রশ্ন তুলে কমিশনের বিরুদ্ধে ফের হাইকোর্টে মামলা

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ফাইল চিত্র

নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কমিশন প্রশাসনিক স্তরে রদবদল করে চলেছে। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। এবার এক দিনের মধ্যে ২৬৭ জন সরকারি আধিকারিক—যাদের মধ্যে বিডিও এবং বিভিন্ন থানার ওসি রয়েছেন—তাদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিষয়টি গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। আদালত তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে একের পর এক প্রশাসনিক বদলির সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। রবিবারও বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের প্রায় ১৭০টি থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিককে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারদেরও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। নন্দীগ্রামের দুই ব্লকের বিডিও এই তালিকায় রয়েছেন।

জেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরে সবচেয়ে বেশি রদবদল হয়েছে। এই জেলা থেকে ১৪ জন বিডিও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে সরানো হয়েছে। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে ১১ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।

এই ব্যাপক প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিরোধিতা করে আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন যেভাবে আধিকারিকদের বদলি করছে, তা অস্বাভাবিক এবং তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি আদালতে যুক্তি দেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকলে এ ধরনের ব্যাপক রদবদল দেখা যায়। ফলে রাজ্যে তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনও তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে। তবে নতুন করে এত সংখ্যক বিডিও ও ওসিকে অপসারণের বিরুদ্ধে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই আরও জোরদার হতে চলেছে। এখন নজর আদালতের আসন্ন শুনানির দিকে, যা এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করতে পারে।