দীর্ঘ বিতর্ক ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম উঠল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের। তবে তালিকায় তাঁকে ‘প্রবাসী ভারতীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিস পাঠানো হলে তা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টিকে সম্মানহানিকর বলে অভিযোগ করেন।
Advertisement
বিতর্কের মধ্যেই শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়ি ‘প্রতীচী’-তে গিয়ে শুনানির কাজ সম্পন্ন করেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম আদৌ থাকবে কিনা। অবশেষে শনিবার প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলে।
Advertisement
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় বহু সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের কাছেও নোটিস পৌঁছয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার জয়ী ব্যক্তিত্বকেও এভাবে নোটিস পাঠানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
অন্যদিকে, আমেরিকার বোস্টনে অবস্থান করে গোটা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অমর্ত্য সেন নিজেও। তিনি বলেন, অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং ভোটারদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
পরবর্তীতে কমিশনের তরফে জানানো হয়, নিয়ম মেনেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল। শুনানির সময় অমর্ত্য সেনের পক্ষ থেকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নথি, পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং তাঁর মা প্রয়াত অমিতা সেনের মৃত্যু শংসাপত্র-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়া হয়। সবশেষে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও, তাঁকে ‘প্রবাসী ভারতীয়’ হিসেবে উল্লেখ করা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
Advertisement



