• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 24 July, 2026

এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু, আতঙ্ক

স্ট্রেচার ও অ্যাম্বুল্যান্সে শুনানিতে বৃদ্ধরা

এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু, আতঙ্ক

Nurse body Found Photo-Representative

এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে আতঙ্কের আবহে এ বার এক মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এল। নদিয়ার কল্যাণীতে এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা ওই মহিলার মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত মহিলার নাম রত্না চ্যাটার্জি। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তড়িঘড়ি তাঁকে কল্যাণী গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে রওনা দেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের শুনানি বাড়িতে গিয়ে করা হোক। প্রয়োজনে সমস্ত তথ্য বিএলও-দের থেকেই নেওয়া যেত। এই ঘটনার জন্য বিজেপিই দায়ী। এই মৃত্যুর দায় তাদেরই নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, বারবার তারই ছবি ধরা পড়ছে। নদিয়ার চাপড়া ব্লকের সিকরা কলোনিতে দেখা গেল, স্ট্রেচারে শুয়ে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছতে হল এক ৮০ বছরের বৃদ্ধাকে। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণেই তাঁকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ওই বৃদ্ধার হাঁটার ক্ষমতা প্রায় নেই। তবুও নির্ধারিত দিনে চাপড়া বিডিও অফিসে হাজির হতে বাধ্য করা তাঁকে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়িতে শুনানির ব্যবস্থা করার জন্য আগেই আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনে কোনও কর্ণপাত করা হয়নি বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট বিএলও-রা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর ফর্ম দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়াও হয়েছিল। খসড়া ভোটার তালিকায় ওই বৃদ্ধার নাম থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই বাড়িতে পৌঁছে যায় শুনানির নোটিশ।

ওই বৃদ্ধার নাম হাচিনা শেখ। তিনি চাপড়া থানার ৯৩ নম্বর বুথের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হয়েছে। ফলে উপায় না পেয়ে স্ট্রেচারে করেই শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

একই ছবি দেখা গিয়েছে মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও। সেখানে দু’জন বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের একজনের বয়স ৮০ বছর, অন্যজনের বয়স ৭২ বছর। পরিবারগুলির অভিযোগ, কমিশনের নির্দেশেই এই অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, কান্দি ব্লকের মহলন্দী গ্রামে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও সামান্য ভুলের কারণে কয়েকজন এমন মানুষকে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়, যাঁদের বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতাই নেই। কান্দির তৃণমূল বিধায়ক তথা বহরমপুর–মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের উদ্যোগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়। মাকসুদা বেওয়া, আসিয়া বিবি-সহ একাধিক বয়স্ক মানুষকে সেই ভাবেই কান্দি ব্লক অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

এসআইআর শুনানিকে ঘিরে একের পর এক এমন ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে মানবিক বিকল্প পথ নেওয়া যেত না? রত্না চ্যাটার্জির মৃত্যুর পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এখন সকলের নজর প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।