আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতাকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য চলাচলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ভারত। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বৈঠকে এই মন্তব্য করেন অজিত ডোভাল।
বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোভাল বলেন, ‘আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে ভারত স্বাগত জানাচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভারত ‘সতর্ক ও আশাবাদী’। তাঁর কথায়, আমরা আশা করছি এই সমঝোতা কার্যকর হবে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। হরমুজ প্রণালীর পুনরায় খুলে যাওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ’।
ডোভালের মতে, এই সমঝোতার ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ কমবে। বিশেষ করে সার, রাসায়নিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ঘাটতি অনেকটাই দূর হতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হলে আঞ্চলকি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে যা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
ব্রিকসের বৈঠকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডোভাল বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ব এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক সংঘাত, জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতি চাপ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে বিশ্বে শুধু হুমকির পরিমাণই বাড়ছে না, বরং সেই হুমকি মোকাবিলার জন্য গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাগুলিও অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
ব্রিকসে উপস্থিত ছিলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউলিটি কাউন্সিলের উপ-সচিব ঘাদির নেজামিপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব আলি মোহাম্মদ হামাদ আল শামসি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মন্ত্রীসভার সদস্য খুমবুদজো এনতশাভেনি।




