রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এবার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান এবং মহিলা-শিশু সুরক্ষায় একাধিক নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করল বিজেপি সরকার। নারী, শিশু বিকাশ ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে শৃঙ্খলা ফেরানো, তোলাবাজি বন্ধ করা এবং নাগরিক পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মহিলা ও শিশু সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত হেল্পলাইন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বরকেই অন্তর্বর্তীভাবে ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যতে মহিলা হেল্পলাইন এবং চাইল্ড হেল্পলাইনকে একত্রিত করে আরও কার্যকর পরিষেবা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীনে পৃথক কল সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।
Advertisement
পাশাপাশি শহরে অবৈধ পার্কিং নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তার দু’পাশে ইচ্ছেমতো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার দিন শেষ। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পার্কিং জোনেই গাড়ি রাখা যাবে। নির্ধারিত জায়গার বাইরে পার্কিং করলে তা বেআইনি বলে গণ্য হবে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে শহর ও গ্রামে যানজট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছিল বলেই সরকারের দাবি। এবার সেই সমস্যার সমাধানে কড়া নজরদারি চালানো হবে।
Advertisement
এর পাশাপাশি পার্কিংয়ের নামে বেআইনি টাকা তোলার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর অভিযোগ, আগে ভুয়ো পার্কিং স্লিপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হত, যার কোনও অংশ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত না। তাই প্রতিটি অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় নির্দিষ্ট রেট চার্ট টাঙিয়ে দেওয়া হবে, যাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা না যায়।
শুধু তাই নয়, রাজ্যকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে সরকার। খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু হবে। কোথাও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখলে সাধারণ মানুষ সেই ছবি তুলে অ্যাপে পাঠাতে পারবেন। জিও-ট্যাগিং প্রযুক্তির মাধ্যমে জায়গাটি চিহ্নিত করে ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসনের দাবি।
Advertisement



