• facebook
  • twitter
Saturday, 17 January, 2026

নির্বাচনী দায়িত্ব না কি মানসিক নিপীড়ন? বিএলও মৃত্যুর ঘটনায় হস্তক্ষেপ অভিষেকের

স্বামীর মৃত্যুর পিছনে এসআইআর সংক্রান্ত অমানবিক মানসিক চাপের অভিযোগ তুলে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করলেন মৃতের স্ত্রী সুদীপ্তা দাস

পূর্ব যাদবপুরে বিএলও অশোক দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। স্বামীর মৃত্যুর পিছনে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর সংক্রান্ত অমানবিক মানসিক চাপের অভিযোগ তুলে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করলেন মৃতের স্ত্রী সুদীপ্তা দাস। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ।
এই ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার খবর পেয়েই তিনি মৃত বিএলওর পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে অবিলম্বে অশোক দাসের বাড়িতে পাঠান। পরিবারকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, অভিষেক গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যানগরের বাড়ি থেকেই অশোক দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বহরু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক অশোক দাস নির্বাচনী দায়িত্বে বিএলও হিসেবে কাজ করছিলেন। এসআইআর কর্মসূচির আওতায় পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফপি স্কুলের ১১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। টেবিলের উপর রাখা সাদা কাগজে লেখা ছিল—এসআইআর সংক্রান্ত কাজের চাপ আর সহ্য করতে পারছেন না তিনি। শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অবসাদের কথাও নোটে উল্লেখ রয়েছে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কাজের চাপ নিয়ে চরম মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন অশোক দাস।
এর আগেও মৃতের দিদি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, এসআইআর সংক্রান্ত কাজ নিয়ে তাঁর ভাই প্রবল চাপে ছিলেন। এবার সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করে আইনি পথে হাঁটলেন স্ত্রী সুদীপ্তা দাস। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছিল অশোককে, যার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
এই ঘটনার পর প্রশাসনিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে—এসআইআর সংক্রান্ত কাজে কতটা চাপ দেওয়া হচ্ছে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উপর? বিষয়টি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মানসিক সুরক্ষা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় ভূমিকা এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে নির্বাচনী কর্মী—বারবার ‘মানুষের পাশে থাকার রাজনীতি’র বার্তা দিয়ে আসা অভিষেকের নেতৃত্বেই এই মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্য কারণ দ্রুত সামনে আসবে বলে আশাবাদী মৃতের পরিবার। পুলিশ তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে পূর্ব যাদবপুর।

Advertisement

Advertisement