জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনের ঝাঁজ এবার ছড়িয়ে পড়ল দক্ষিণ ভারতে। দিল্লির যন্তর মন্তরের পর এবার কেরলের কোচির রাজপথ কাঁপাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি। এসআইআর (SIR) বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’-এর বিরোধিতায় এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার কোচি কার্যত বদলে গেল যন্তর মন্তরে! নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই প্রতিবাদী জমায়েতে কোচির রাজপথের দখল নিল ককরোচরা।
Gandhi – SOUL of India Ambedkar – BACKBONE of India Nehru – MIND of India You can never become like them. https://t.co/csEnND5J7T
— Cockroach Janta Party – CJP (@Cockroachisback) November 7, 2026
প্রকাশ রাজের নেতৃত্বে রাজপথে হুঙ্কার
‘যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’ (Jantar Mantar at Kochi) শীর্ষক এই বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান প্রায় অগুনতি আন্দোলনকারী। মেরিন ড্রাইভ থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে নেতৃত্বে ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা প্রকাশ রাজ। মিছিলের প্রধান দাবি, অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর (SIR) প্রত্যাহার করতে হবে এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হওয়া এই মিছিলে এদিন হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে পা মেলান ‘ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া’-র (DYFI) রাজ্য সভানেত্রী চিন্থা জেরোমও। কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে দিয়ে সিজেপি-র এই মিছিলটি শেষ হয় রাজেন্দ্র ময়দানে গিয়ে।
‘নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনও আস্থা নেই’
এদিন সকালেই প্রতিবাদে যোগ দিতে কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। অভিজিৎ বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের দায়িত্বে হওয়া নির্বাচনের ওপর কোনওভাবেই ভরসা করা যায় না। নির্বাচনগুলি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য কারচুপি করে করানো হচ্ছে। ভারতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা কায়েম না হওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আমাদের এই লাগাতার লড়াই জারি থাকবে। কেরলমের যুবসমাজের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে দীপকে জানান, গোটা দেশের মধ্যে কেরলমেই সিজেপি-র সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত সদস্য রয়েছেন।
Kochi showed up!🔥 Gyanu has to go! https://t.co/FmLQHBboj1
— Cockroach Janta Party – CJP (@Cockroachisback) November 7, 2026
দিল্লির সংঘাতের পর কোচিতে বৃহত্তর আন্দোলন
দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে কেন কেরলমে টেনে আনা হল? আসলে, গত কয়েক মাস ধরেই জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ঘিরে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সিজেপি-র সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পাশাপাশি, দলের ঘোষিত ‘তিরঙ্গা মার্চ’-এর ঠিক আগেই অভিজিৎ দীপকে-কে আটক করা হয়। এমনকি, দিল্লিতে বিক্ষোভের জেরে দায়ের হওয়া মামলাগুলি নিয়ে সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সিজেপি নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। পুলিশি দমনপীড়নের মুখে পড়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে তাঁরা এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ, কোচির রাস্তায় নেমে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল সিজেপি নেতৃত্ব।




