ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে সমস্ত দুর্নীতির অবসান ঘটাবেন তিনি। তারপরই তৎপরতা দেখা গিয়েছে প্রশাসনিক স্তরেও। সম্প্রতি দুর্গাপুরের এক কয়লা মাফিয়া শেখ শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করেছিল রাজ্য এসটিএফ। এবার তাকে জেরা করে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডরের হদিশ পেল এসটিএফ। বৃহস্পতিবার সকালে বীরভূম জেলার মুরারই থানার অন্তর্গত বড়ুয়া গোপালপুর গ্রামে এক গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তাজা বিস্ফোরক এবং আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযানে নেমে রাজগ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুডা এবং সিউড়ির তিলপাড়ার বাসিন্দা মুকেশ সিং নামে দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটনেটর এবং ১২ হাজার মিটার দীর্ঘ ডিটোনেটিং কর্ড। এমনকী উদ্ধার হয়েছে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র। যার মধ্যে রয়েছে ৬টি মাস্কেট, চারটি ৭ এমএম পিস্তল এবং ১১টি পাইপ গান। আর ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। বেআইনিভাবে কয়লা খনন এবং পাচারের জন্য এই অস্ত্র সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে চোরাপথে আনা হতো এই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বলে এসটিএফ সূত্রে খবর।
এই অস্ত্রভাণ্ডার হদিশের ঘটনায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোনও বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের উদ্দেশে মজুত করা হয়েছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে এটিএসের বিশেষ প্রতিনিধি দল। অভিযুক্তকে জেরা করে কয়লা মাফিয়া সিন্ডিকেটের কাজের প্রক্রিয়া দেখে কার্যত চমকে উঠেছেন তদন্তকারীরা। জেরায় উঠে এসেছে যারা আইন মেনে টেন্ডার পেতেন কয়লা তোলার জন্য তাদেরকে কার্যত ভয় দেখিয়ে কাজ করতে দেওয়া হতো না। তাদের জায়গায় বেআইনিভাবে কয়লা তুলত কয়লা মাফিয়া সিন্ডিকেট সদস্যরা। আর এই কাজেই ব্যবহার হতো বাজেয়াপ্ত হওয়া বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র।
তাছাড়া আবার একটি পৃথক এবং বড় অভিযানে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার পাণ্ডবেশ্বরে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এসটিএফ। জামুরিয়া থানার ৩১০/২৬ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতী ও বেআইনি কয়লা কারবারে যুক্ত শেখ শাহজাহানকে জেরা করে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই মামলায় আগেই খায়রুল আলম (২টি অস্ত্র সহ) এবং মহম্মদ শামসেরকে (১৫টি অস্ত্র সহ) গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।




