দুর্গাপুজো মিটে গিয়েছে। এখন কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, ছটপুজো, ভাইফোঁটা-সহ নানা পার্বণ আছে। সেগুলি শেষ হলেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। ডিসেম্বর মাসের শেষে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আর যদি কোনও কারণে ডিসেম্বর মাসেও কলকাতা পুরসভার নির্বাচন না হয় তাহলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে হবেই। এই ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসকে ধরে নিয়েই নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিল লালবাজার। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে এক দফা আলোচনা হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা, হিংসা যাতে না হয় তা নিয়েই হয়েছে বৈঠক।
উৎসবের আবহ মিটলেই বাজবে পুরসভা নির্বাচনের দামামা। রাজনৈতিক দলগুলি পুরোদমে রাস্তায় নেমে পড়বে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই পুরসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে লালবাজার। যাতে কলকাতায় পুরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও অশান্তি বা গুলি চালানোর মতো ঘটনা না ঘটে। কোন এলাকা কতটা স্পর্শকাতর, কোন কোন জায়গায় দুষ্কৃতীরা সক্রিয় রয়েছে, গোলমাল কোথায় হতে পারে-সেই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাতে তালিকা অনুযায়ী পদক্ষেপ করা যায়। নির্বিঘ্নে ভোট করতেই এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কলকাতার সঙ্গে হাওড়া পুরসভারও নির্বাচন আছে। তাই এখন থেকে সব খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দীপাবলি মিটলেই পুরসভা নির্বাচন নিয়ে নোটিফিকেশন জারি হতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা। তা হয়ে গেলেই জোরকদমে শুরু হবে প্রচার। এবার পুরসভা নির্বাচন নিয়ে বাড়তি সতর্ক লালবাজার। কারণ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের এটা প্রথম পুরসভার নির্বাচন। কলকাতা পুলিশের শীর্ষস্তর এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে সমস্ত থানায় নির্দেশ গিয়েছে, পুরসভা ভোটের প্রস্তুতিতে যেন সামান্য ফাঁকও না থাকে। তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হবে। তাই গত পুরসভা ভোটে যেসব এলাকায় গোলমাল হয়েছে, তার তালিকা তৈরি হচ্ছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, এখানেই শেষ নয়, ওই গোলমাল-অশান্তিতে কে বা কারা মদত দিয়েছিল, কোন দলের কর্মী-সমর্থক ছিল, তারা তখন গ্রেপ্তার হয়েছিল কিনা, জামিন কবে পেয়েছিল সব তথ্য-নথি তৈরি করছেন অফিসাররা। এমনকী গোলমালে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনে আগাম সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার করা হতে পারে দুষ্কৃতীদের। গোলমাল এড়াতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আর দুষ্কৃতীরা যাতে গোলমাল করতে না পারে তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোন কোন এলাকা স্পর্শকাতর, সেই তালিকাও তৈরি করছেন গোয়েন্দারা।




