রামলীলার সভার পাল্টা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি। আর তা আছড়ে পড়ল কলকাতার রাজপথে। কলেজ স্কোয়্যার থেকে মিছিল শুরু করল বিজেপি। আর তা যত এগিয়েছে তত মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ধর্মতলার পথে মিছিল আসতেই তা জনপ্লাবনে পরিণত হয়। ইন্ডিয়া জোটের পাল্টা গণতন্ত্র বাঁচাতে পথে নেমেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটছেন তাঁরা। আর মিছিলের প্রথমসারিতে আছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁদের সঙ্গে পা মেলান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। সবমিলিয়ে বিরাট মিছিল। আর সেখান থেকেই মাঝে মাঝে জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একের পর এক কর্মসূচি করছে বিরোধীরা। রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে নানা রাজ্যে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। পথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করেছে ককরোচ জনতা পার্টিও। এই ধারাবাহিক কর্মসূচির পালটা হিসেবে এবার পথে নামল বিজেপি। দেশের একাধিক শহরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে তারা। এই কর্মসূচি নিয়ে সোমবার কলকাতার রাজপথে মিছিল করে বিজেপি। মিছিল কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে পৌঁছয় ধর্মতলা পর্যন্ত। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
আর নীতিন নবীনের পদযাত্রার সঙ্গে প্রথমসারিতেই হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনজনেই কাঁধে তুলে নিয়েছেন দেশের জাতীয় পতাকা। বিজেপির এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এদিন হায়দরাবাদে তেরঙ্গা কাঁধে হাঁটেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তবে এদিন দুপুরেই কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নীতিন নবীন। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা কলেজ স্ট্রিটে এসে জড়ো হন। তার পর সেখানে আগে থেকে জড়ো হওয়া বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে করমর্দন করেন তাঁরা। কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছেই তেরঙ্গা কাঁধে নিয়ে মিছিল শুরু করেন নীতীন নবীন।
তাছাড়া বিরোধীদের মিথ্যাচার এবং ‘আরশোলাদের অরাজকতা’র বিরুদ্ধেই শহরে শহরে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। তাই এই মেগা কর্মসূচি। এই জমায়েতে যোগ দেন বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারও। দেবজিৎ জানান, এটি বিরোধীদের অরাজকতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষা করার যাত্রা। মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে জনতা পা মিলিয়েছেন। তাঁরা সত্যের সঙ্গে আছেন। মিছিলের হাঁটেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি জানান, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে বিদেশি শক্তি পয়সা দিচ্ছে। এই মিছিল থেকে নীতিন নবীন বলেন, ‘বিরোধীরা শুধু ক্ষমতা দখল করতে চায়। আমাদের কাছে সবার আগে সংবিধান। গণতন্ত্র রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এসআইআরের পর তামিলনাড়ু এবং কেরলমেও নির্বাচন হয়েছে। সেখানে বিরোধীরা জিতেছে। তখন তো এসআইআর নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি।’




