• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 2 November, 2026

বিরাট হইচই করে ৮ কোটির সেতু তৈরি, কিন্তু ওঠার জন্য কোনও রাস্তাই নেই: সরকারি ‘উন্নয়ন’ দেখে চোখ কপালে

মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরমে দুধী নদীর উপর ৮ কোটির সেতু তৈরি হলেও নেই কোনও অ্যাপ্রোচ রোড। তিন বছর ধরে অব্যবহৃত সেতুটি নিয়ে সরকারি গাফিলতির বিশদ এক্সপ্লেইনার।

বিরাট হইচই করে ৮ কোটির সেতু তৈরি, কিন্তু ওঠার জন্য কোনও রাস্তাই নেই: সরকারি ‘উন্নয়ন’ দেখে চোখ কপালে

Built for Rs 8 crore, this bridge in Madhya Pradesh has no roads leading up to it (Image: Collected From Social Media)

মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) নর্মদাপুরম জেলায় এক আজব কাণ্ড ঘটেছে। সেখানে নদীর উপরে আস্ত একটি ঝকঝকে সেতু (Bridge) তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে গত তিন বছর ধরে। কিন্তু সেই সেতুতে ওঠার কোনও রাস্তা বা অ্যাপ্রোচ রোড (Approach Road) তৈরি হয়নি। ফলে ৮ কোটি টাকারও বেশি খরচে তৈরি এই পরিকাঠামো স্থানীয় গ্রামবাসীদের কোনও কাজেই আসছে না। প্রশাসন এবং সরকারি দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের যে চূড়ান্ত অভাব রয়েছে, এই ঘটনা আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা

নর্মদাপুরম (Narmadapuram) জেলার বাঁখেড়ি এলাকার উমরধা গ্রামের কাছে দুধী নদীর (Dudhi River) উপরে এই সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এই প্রকল্পের জন্য। ৩০৮ মিটার লম্বা এই সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসেই শেষ হয়ে যায়। নর্মদাপুরম এবং পড়শি জেলা নরসিংহপুরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুগম করার লক্ষ্যেই এই সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল। কথা ছিল, এই সেতু চালু হলে দুই জেলার প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। কৃষকদের যাতায়াত থেকে শুরু করে জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি।

কেন সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না

সেতুটির মূল কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও, দুই প্রান্তে মূল রাস্তার সঙ্গে সেতুকে জুড়ে দেওয়ার জন্য যে সংযোগকারী পথ বা লিঙ্ক রোড (Link Road) থাকা দরকার, তার কোনও অস্তিত্বই নেই। নরসিংহপুরের দিকে প্রায় ১.২ কিলোমিটার এবং নর্মদাপুরমের দিকে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি না হওয়ায় সেতুটি কার্যত দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বর্ষাকালে সেতু সংলগ্ন কাঁচা রাস্তা কাদায় ডুবে যায়। আর জল শুকিয়ে গেলে খানাখন্দে ভরে যায় গোটা এলাকা। ফলে বাধ্য হয়েই গ্রামবাসীদের সেই কাদা এবং খানাখন্দ পেরিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সরকার কী বলছে

এই অচলাবস্থার জন্য সরকারি স্তরে এক অদ্ভুত টানাপড়েন চলছে। সেতু নির্মাণ দপ্তরের (Setu Nirman Vibhag) আধিকারিকদের দাবি, তাঁদের উপরে যেটুকু কাজের দায়িত্ব ছিল, তা তাঁরা সম্পন্ন করেছেন। দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মূল সেতু এবং তার দুই প্রান্তে ৫০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তা তাঁরা তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু বাকি যে এক কিলোমিটারের বেশি সংযোগকারী রাস্তা তৈরি করতে হবে, তা তাঁদের দপ্তরের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ওই রাস্তা তৈরির দায়িত্ব অন্য কোনও সংস্থাকে বা পূর্ত দপ্তরকে (PWD) দেওয়ার কথা সরকারের। কিন্তু কোন দপ্তর সেই রাস্তা তৈরি করবে, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি মধ্যপ্রদেশ সরকার।

অথৈ জলে গ্রামবাসীরা

ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, কোন কোন অংশের রাস্তা তৈরি করা বাকি রয়েছে। কিন্তু যতদিন না প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং নতুন করে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে, ততদিন গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ কমার কোনও আশা নেই। সাধারণ মানুষের করের টাকায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে পরিকাঠামো তৈরি হলেও, শুধুমাত্র সরকারি লালফিতের ফাঁসে তা যে কীভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, মধ্যপ্রদেশের এই সেতু তারই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।