রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার প্রথমবারের জন্য আয়োজিত হতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)। সেই উৎসবকে ঘিরেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। রবিবার, ১ নভেম্বর নন্দনে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ্যে আনা হয় ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। এবারের উৎসবের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই চলচ্চিত্র উৎসব।
৩২তম KIFF-এর লোগো ডিজাইন করেছেন পরিচালক সন্দীপ রায়। রবিবার নন্দনে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর হাত ধরে উন্মোচিত হয় সেই লোগো। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। গোটা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অভিনেতা-বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ভাষার সিনেমা নিয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আয়োজন করে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। তবে এবারের উৎসবের গুরুত্ব কিছুটা আলাদা। কারণ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের আমলে এই প্রথম আয়োজিত হতে চলেছে KIFF। স্বাভাবিক ভাবেই উৎসবের আয়োজন, পরিকল্পনা এবং নতুন চমক নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।
এবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবের থিম সং তৈরি করেছেন রাতুল শংকর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতা তথা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে।
এবারের KIFF-এর অতিথি তালিকাতেও থাকছে একাধিক চমক। বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের একঝাঁক তারকাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত, ‘বাহুবলী’ খ্যাত প্রভাস, বলিউডের অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার, কঙ্গনা রানাউত, পরিচালক অনুরাগ বসু এবং মধুর ভান্ডারকর।
এমনকি সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকায় রয়েছে এক হলিউড অভিনেত্রীর নামও। তবে তাঁর উপস্থিতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেই কারণেই আপাতত তাঁর পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে কোন কোন দেশের ছবি প্রদর্শিত হবে, কতগুলি বিভাগে প্রতিযোগিতা হবে এবং দর্শকদের জন্য কী কী নতুন আয়োজন থাকছে, তা এখনও বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি। ধাপে ধাপে প্রকাশ্যে আসবে উৎসবের সম্পূর্ণ সূচি।
তবে এবারের KIFF-এ অন্যতম বড় পরিবর্তন হতে চলেছে উৎসবের আয়োজনের পরিসরে। জানা যাচ্ছে, আগের তুলনায় বাড়ানো হবে চলচ্চিত্র উৎসবের ভেনুর সংখ্যা। শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে উৎসবকে সীমাবদ্ধ না রেখে কলকাতা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। শহরের আরও বেশি সংখ্যক সিনেমাপ্রেমীর কাছে উৎসবকে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর KIFF-এর লোগো থেকে শুরু করে আয়োজনের পরিসর—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নতুনত্বের পরিকল্পনা সামনে আসছে। ফলে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে এখন থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের এই চলচ্চিত্র উৎসব কতটা নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।




