• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 31 October, 2026

তারেকের বিরুদ্ধেও ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান, হাসিনার পর নতুন স্বৈরাচার তকমা এনসিপির

শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে যে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান উঠেছিল, তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধেও ফের সেই স্লোগান

তারেকের বিরুদ্ধেও ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান, হাসিনার পর নতুন স্বৈরাচার তকমা এনসিপির

শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে যে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান উঠেছিল, তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধেও ফের সেই স্লোগান শোনা গেল। শুক্রবার ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ভারত-বিরোধী সুর চড়াল হাসিনা-বিরোধী ছাত্র-যুবকদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুধু তা-ই নয়, শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে তারেক রহমানের বর্তমান সরকারকে এক বন্ধনীতে ফেলে ‘নব্য স্বৈরাচার’ বলেও আক্রমণ শানাল তারা। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জ্বালানি ও খনিজমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ইস্তফার দাবি তুলেছে দলটি।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-যুব নেতারাই পরবর্তী সময়ে এনসিপি গঠন করেন। এ বারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েছিল দলটি। সংগঠনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিরোধী শিবিরের চিফ হুইপ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি-সহ একাধিক ইস্যুতে শুক্রবার তারেক সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকায় সমাবেশ করে এনসিপি।

তবে সেই সমাবেশে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয়, উঠে আসে ভারত-বিরোধী বিভিন্ন মন্তব্যও। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, মঞ্চ থেকে এনসিপি নেতারা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘দিল্লি না ঢাকা’। জবাবে সমবেত জনতা বলছে, ‘ঢাকা, ঢাকা’। অর্থাৎ, হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে যে ভারত-বিরোধী মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছিল, তারেক সরকারের বিরুদ্ধেও সেই সুর ফিরিয়ে আনতে চাইছে এনসিপি।

প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাবেশে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ভারতের ‘চক্রান্ত’ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে ব্যর্থ বর্তমান সরকার। তাঁর দাবি, জাপান সফরে গিয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতকে ‘অবৈধ করিডর’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারেক রহমান। এই ধরনের কোনও করিডর বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা।

গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও তারেক সরকারকে সতর্ক করেছে এনসিপি। ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই চুক্তি নবীকরণে আগ্রহী ঢাকা। তবে এনসিপির দাবি, নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে হবে। নাহিদের হুঁশিয়ারি, জলবণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রাপ্য অধিকার থেকে সামান্যতম ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যথায় ফের আন্দোলনে নামবে তারা।

এর আগেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে তারেক রহমানের উপর চাপ তৈরি করেছে এনসিপি। গত অগস্টে নাহিদ বলেছিলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়গুলি নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর করা উচিত নয়। উল্লেখ্য, পরের মাসে দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিক্‌স সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ পেয়েও যোগ দেননি তারেক। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও কোনও প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি।

শুক্রবারের সমাবেশে তারেককে নিশানা করে নাহিদ বলেন, এক স্বৈরাচারের পতনের পর বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান ঘটেছে। তবে পতিত স্বৈরাচার এবং বর্তমান নব্য স্বৈরাচার—দু’পক্ষকেই পরাজিত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। নাহিদের দাবি, হাসিনা দেশে ফিরলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতাও বর্তমান সরকারের নেই। তাই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জনতাকে ফের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।