• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

৩ ঘণ্টায় ছক, জেলকর্মীদের ব্যস্ত রেখে পালিয়েছিলেন ১৭ বন্দি, ৪৮ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার সকলেই

তদন্তকারীদের দাবি, মুথুকে সামলাতে জেলকর্মীরা ছুটে এলে অন্য বন্দিরা তাঁদের উপর চড়াও হন। হাতের কাছে থাকা থালা-বাসন দিয়ে কর্মীদের আঘাত করা হয়। কারাগারের প্রবেশপথের কাছেও ধস্তাধস্তি হয়।

৩ ঘণ্টায় ছক, জেলকর্মীদের ব্যস্ত রেখে পালিয়েছিলেন ১৭ বন্দি, ৪৮ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার সকলেই

File Photo

তামিলনাড়ুর থেনি জেলার একটি কারাগার থেকে ১৭ জন বিচারাধীন বন্দির পালানোর ছক কষা হয়েছিল মাত্র তিন ঘণ্টায়। জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় ক্ষুব্ধ বন্দিরা সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পরিকল্পনা করেন। রাত ১০টার মধ্যেই তা কার্যকর করে পালিয়ে যান ১৭ জন। তদন্তকারীদের দাবি, এই পরিকল্পনার মূলচক্রী ২৬ বছরের লিঙ্গ প্রসাথ। তাঁর পরামর্শেই মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভান করেন আর এক বন্দি মুথু এলাঙ্গোভন। তাঁকে সামলাতে জেলকর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়তেই তাঁদের উপর হামলা চালিয়ে চাবি ছিনিয়ে পালান বাকিরা।

মাদুরাইয়ের বাসিন্দা লিঙ্গ প্রসাথের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই এবং সংগঠিত অপরাধের মামলা রয়েছে। সোমবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আরও দুই বন্দির জামিনের আর্জিও নাকচ হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই ক্ষোভ থেকেই জেল পালানোর পরিকল্পনা করেন লিঙ্গ। অন্য বন্দিদের তিনি জানান, শরীর খারাপের ভান করে জেলকর্মীদের নজর ঘোরানো সম্ভব। তাঁর কথায় সায় দিয়ে মুথু মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভান করেন।

তদন্তকারীদের দাবি, মুথুকে সামলাতে জেলকর্মীরা ছুটে এলে অন্য বন্দিরা তাঁদের উপর চড়াও হন। হাতের কাছে থাকা থালা-বাসন দিয়ে কর্মীদের আঘাত করা হয়। কারাগারের প্রবেশপথের কাছেও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে জেলরক্ষীদের কাবু করে তাঁদের কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নেন বন্দিরা। ওই কারাগারের একটি ব্লকে মোট ৩২ জন বন্দি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন পালিয়ে যান।

দক্ষিণাঞ্চলের পুলিশের আইজি বিজয়েন্দ্র বিদারি সংবাদমাধ্যম এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পালানোর পরিকল্পনা এবং তাতে প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাঁর দাবি, পরিকল্পনাটি খুব দ্রুত তৈরি হওয়ায় তা আটকানো যায়নি।

আরও পড়ুন: ভুয়ো শিক্ষক, প্রাপ্যের ১০ গুণ বেতন, বিহারে শিক্ষা দপ্তরের পোর্টালে ১.৮৫ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

পালিয়ে যাওয়া ১৭ জনকেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের খুঁজতে ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ৯ জন কারাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সব কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা দপ্তর।