• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 28 October, 2026

বৈভবের পাশে ‘বড়দা’ অভিষেক, ১৫ বছরের বিস্ময় তারকাকে চাপমুক্ত রাখাই লক্ষ্য

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে বৈভবকে ওপেন করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে খেলার সাহস তাঁর রয়েছে।

বৈভবের পাশে ‘বড়দা’ অভিষেক, ১৫ বছরের বিস্ময় তারকাকে চাপমুক্ত রাখাই লক্ষ্য

Photo: X

ব্যাট হাতে একের পর এক ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের দিশাহারা করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে ভারত। কিন্তু সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পিছনে রয়েছে আরও এক গল্প। ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীকে শুধু রান করার পরামর্শই দিচ্ছেন না অভিষেক শর্মা, বড় দাদার মতো আগলেও রাখছেন তাঁকে। তরুণ ক্রিকেটার যাতে কোনও চাপ ছাড়াই নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেন, সেটাই নিশ্চিত করতে চান ভারতীয় দলের এই বাঁহাতি ওপেনার।

মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রীতিমতো ঝড় তোলেন অভিষেক ও বৈভব। মাত্র ৪৩ বলে ১৩৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তাঁরা। অভিষেক ৩৮ বলে ১১৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার। অন্য দিকে, মাত্র ১৯ বলে ৪০ রান করে নজর কাড়েন বৈভব। চারটি করে চার ও ছক্কা মারেন তিনি।

দু’জনের দাপটে প্রথম ছ’ওভারে বিনা উইকেটে ১১৮ রান তোলে ভারত। পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাওয়ার প্লেতে এটাই সর্বোচ্চ রান। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩.২ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে ম্যাচ জেতে ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজেও ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে যায় তারা।

‘বৈভবের বয়সে আমরা স্কুলে পড়তাম’

ম্যাচের পরে বৈভবকে নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘আগেও বলেছি, আমার মনে হয় এটা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দলে ১৫-১৬ বছরের একটি ছেলে রয়েছে, যে অত্যন্ত প্রতিভাবান। ভারতীয় ক্রিকেটে আমরা আগে কখনও এমন দেখিনি।’ সোনি স্পোর্টস-এর সম্প্রচারে বৈভবকে পাশে নিয়েই কথাগুলি বলেন অভিষেক।

বৈভবের প্রতিভা নিয়ে উচ্ছ্বসিত অভিষেক। তবে তাঁর মতে, শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না। সঠিক পরিবেশ এবং সিনিয়রদের সমর্থনও প্রয়োজন। অভিষেক বলেছেন, ‘ও আমাদের সঙ্গে খেলছে। তাই বড় দাদা হিসাবে, ওর থেকে বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা ক্রিকেটার হিসাবে, দলের প্রত্যেকের দায়িত্ব ওকে সঠিক পরিবেশ দেওয়া। কেরিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা যাতে ও পায়, তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

বৈভবের বর্তমান বয়সের সঙ্গে নিজের ছোটবেলার তুলনাও টেনেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘ওর বয়সে আমরা ক্লাস টেনে পড়তাম হয়তো, অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলতাম। আমি জানি, ভাল সিনিয়রদের সমর্থন পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তখন মনে হয়, এই স্তরে খেলার যোগ্যতা আমারও রয়েছে।’

‘নিজের মতো খেলুক’

বৈভবের আগ্রাসী ব্যাটিং ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে আলোড়ন ফেলেছে। তবে এত অল্প বয়সে সাফল্যের সঙ্গে প্রত্যাশার চাপও বাড়তে পারে। সেই চাপ থেকে বৈভবকে দূরে রাখাই এখন অভিষেকের লক্ষ্য।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা সব সময় আলোচনা করি, বৈভবকে ওর নিজের মতো খেলতে দিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাট করার সময় ওর উপর যেন কোনও চাপ না থাকে।’

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে বৈভবকে ওপেন করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে খেলার সাহস তাঁর রয়েছে।

তবে অভিষেকের কথায় স্পষ্ট, বৈভবের কাছে প্রত্যাশা বাড়লেও তাঁকে বদলে যেতে দিতে চান না দলের সিনিয়রেরা। রান করার তাগিদে নয়, বরং নিজের প্রতিভার উপর ভরসা রেখেই এগিয়ে যাক ১৫ বছরের বিস্ময়। মাঠে বিধ্বংসী জুটির পাশাপাশি ভারতীয় দলের সাজঘরে তৈরি হচ্ছে এক অন্য সম্পর্ক—যেখানে অভিষেক শুধু বৈভবের ওপেনিং পার্টনার নন, তাঁর ‘বড়দা’-র মতোও।