ব্যালটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই কলকাতা পুরসভার ভোট ঘিরে আইনি লড়াই। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কসবার এক বাসিন্দা। অভিযোগ, ১৪৪ থেকে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৯ করা হলেও সীমানা নির্ধারণে রাখা হয়নি প্রয়োজনীয় যুক্তিসঙ্গত সামঞ্জস্য। পুরভোটের আগে এই মামলা ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা।
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের পুজো অবকাশকালীন বেঞ্চে বিচারপতি আর্যক দত্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মামলাকারীর আইনজীবী শামীম আহমেদ। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়েরের অনুমতি চান তিনি। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
এক সময়ে কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ছিল ১৪৪। নতুন বিন্যাসে তা বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় ওয়ার্ড বেড়েছে ৬৫টি। মামলাকারীর অভিযোগ, এই পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। কোথাও ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণে অসঙ্গতি রয়েছে তো কোথাও আবার জনবিন্যাসের সঙ্গে ওয়ার্ডের কাঠামোর সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি তাঁর।
মামলাকারীর আইনজীবী শামীম আহমেদের বক্তব্য, নতুন করে তৈরি হওয়া ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণে যুক্তিসঙ্গত সামঞ্জস্যের অভাব রয়েছে। সেই পুনর্বিন্যাস কতটা যৌক্তিক ও আইনসম্মত তা আদালতের বিবেচনার জন্যই এই পদক্ষেপ।
এদিকে, নভেম্বরেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। সেই আবহে ডিলিমিটেশন নিয়ে হাইকোর্টে মামলা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ওয়ার্ডের সীমানা বদলের প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী এলাকার বিন্যাস, প্রার্থী বাছাই এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার-কৌশলেও। যদিও মামলাকারীর অভিযোগের সত্যতা বা পুনর্বিন্যাসের বৈধতা নিয়ে এখনও আদালতের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: বিতর্কের কেন্দ্রে ‘মোদী-আদানি বন্ধুত্ব’-এর ভিডিয়ো, মামলা হতেই সরল অ্যাকাউন্ট থেকে
এখন নজর ২৮ অক্টোবরের সম্ভাব্য শুনানির দিকে। পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে আদালত এই বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার। ভোটের লড়াই শুরুর আগেই কলকাতার ওয়ার্ডের মানচিত্র নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠল। যার প্রভাব পড়তে পারে পুরসভার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে। এমনটাই মনে করছেন আইনজীবী মহলের একাংশ।




