রাজস্থানে বর্ষার ঘাটতি এবং ফসলের ক্ষতির কারণে ১৪টি জেলার ৮০টি তহসিলকে খরাপ্রবণ (Rajasthan Drought) এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। রবিবার এই ঘোষণা করা হয়েছে। খরাপ্রবণ এলাকার তালিকায় রয়েছে যোধপুর, জালোর, বারমের, বালতরা, পালি, ডুংরপুর, জয়সালমের-সহ একাধিক জেলার বিভিন্ন তহসিল।
রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সংশ্লিষ্ট তহসিলগুলিকে তীব্র ও মাঝারি খরাপ্রবণ-এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতির জেরে ফসলের ক্ষতি, পানীয় জলের অভাব এবং গবাদি পশুর জন্য খাদ্যের জোগান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে আগামী ছ’মাস পর্যন্ত এই খরাপ্রবণ ঘোষণা কার্যকর থাকবে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে পানীয় জলের ব্যবস্থা, গবাদি পশুর জন্য পশুখাদ্য সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুই দশক পর ছাত্রভোট জামিয়ায়, তবুও আন্দোলন চালানোর সিদ্ধান্ত পড়ুয়াদের
১৪টি জেলার ৮০টি তহসিল খরাপ্রবণ
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, যোধপুরে সর্বাধিক ১২টি তহসিলকে খরাপ্রবণ (Rajasthan Drought) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর রয়েছে জালোর ও বারমের, এই দুই জেলায় ১০টি করে তহসিল খরাপ্রবণ। বালতরায় ৯টি এবং পালিতে ৮টি তহসিল এই তালিকায় রয়েছে।
এ ছাড়া ডুংরপুর, জয়সালমের ও ফলৌদিতে ৭টি করে তহসিল খরাপ্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে। বাঁশওয়াড়ায় ৩টি এবং বেওয়ার, চুরু ও বিকানেরে ২টি করে তহসিল এই তালিকায় রয়েছে। নাগৌর ও সিরোহিতে একটি করে তহসিলকে খরাপ্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবনে দুর্যোগের আশঙ্কা, সতর্ক প্রশাসন, চলছে মাইকিং
বৃষ্টির ঘাটতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল
রাজস্থানের একাধিক জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। পালিতে বৃষ্টির ঘাটতি ৫৮ শতাংশ। জয়সালমেরে ৫৪ শতাংশ এবং জালোরে ৫০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। বাঁশওয়াড়ায় বৃষ্টির ঘাটতি ৩৯ শতাংশ এবং সিরোহিতে ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বালতরায় স্বাভাবিকের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। যোধপুরে এই ঘাটতির পরিমাণ ২৭ শতাংশ এবং ডুংরপুরে ২৪ শতাংশ।
পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়েছে। জমিতে আর্দ্রতার অভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল শুকিয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে ফসলের ক্ষতি এবং কৃষকদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জলের অভাবের কারণে সমস্যায় পড়েছেন পশুপালকরাও। পানীয় জল ও পশুখাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
দেখুন:




