• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 26 October, 2026

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবনে দুর্যোগের আশঙ্কা, সতর্ক প্রশাসন, চলছে মাইকিং

ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তার উপর রয়েছে পূর্ণিমার ভরা কটাল। ফলে নদী ও সমুদ্র উত্তাল হয়ে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবনে দুর্যোগের আশঙ্কা,  সতর্ক প্রশাসন, চলছে মাইকিং

Image: ANI

বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab)। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দূরে থাকলেও তার প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকা এবং সুন্দরবনে। ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তার উপর রয়েছে পূর্ণিমার ভরা কটাল। ফলে নদী ও সমুদ্র উত্তাল হয়ে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। নামখানা, মৌসুনি দ্বীপ-সহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Arnab)প্রভাবে ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। উপকূলের দিকে ঘূর্ণিঝড় (Cyclone Arnab) এগিয়ে এলে হাওয়ার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এবং সংলগ্ন এলাকায় দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার হতে পারে। এই সময় সমুদ্র অতি উত্তাল থাকবে।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বাংলাতেও, উপকূলের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, মৎস্যজীবীদের ফিরতে নির্দেশ

নামখানা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন উপকূলবর্তী থানার তরফে সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় গঙ্গাসাগর, বকখালি এবং মৌসুনি দ্বীপে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুন্দরবনেরর সমস্ত ব্লক প্রশাসনকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নদীবাঁধ সংলগ্ন এলাকা এবং নিচু বসতিগুলির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে পূর্ণিমার ভরা কটাল দোসর হলে উপকূলবর্তী এলাকায় জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। নদীবাঁধ ও নিচু এলাকায় জল ঢোকার আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে প্রচার চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, শক্তি বাড়িয়ে অতি তীব্র হওয়ার পূর্বাভাস, বাংলায় কোথায় বৃষ্টি?

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab) উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড় (Cyclone Arnab) আছড়ে পড়ার সময় গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিমি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং ভরা কোটালের জেরে উপকূলবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগাম সতর্কতা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

দেখুন: