• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 25 October, 2026

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতির ঘরে নিজ কন্যাই ‘মা লক্ষ্মী’

সমাজ থেকে শিশু নির্যাতন, নারী ধর্ষণ ও অমানবিক অপরাধের কালো ছায়া দূর করতে এবং নারী শক্তির প্রতি সম্মান জানাতে এক অভিনব

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতির ঘরে নিজ কন্যাই ‘মা লক্ষ্মী’

সমাজ থেকে শিশু নির্যাতন, নারী ধর্ষণ ও অমানবিক অপরাধের কালো ছায়া দূর করতে এবং নারী শক্তির প্রতি সম্মান জানাতে এক অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ নিলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার শিবনিবাস হালদার পাড়ার এক পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতি। কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতে প্রতিমা নয়, বরং নিজের আট বছরের একরত্তি কন্যাকে দেবী লক্ষ্মীর আদলে সাজিয়ে পুরোহিত ডেকে পুজো করলেন দেবাশীষ বিশ্বাস ও লক্ষ্মী বিশ্বাস।
এই ব্যতিক্রমী ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রশংসার জোয়ার বইছে।
কেন এই অভিনব উদ্যোগ?
সাম্প্রতিক সময়ে আরজিকরের ঘটনা থেকে শুরু করে কুলতলীর উমা খুন কিংবা অতীতে নদিয়ারই কৃষ্ণনগরে ঘটে যাওয়া নৃশংস অপরাধের ঘটনাগুলি সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সমাজে নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বার্তা দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেন বিশ্বাস পরিবার।
পরিবারের গৃহকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, সমাজে এখনও বহু মানুষ কন্যা সন্তানকে অবহেলা করেন এবং ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করেন। এই ভ্রান্ত ধারণা ও অসামাজিক মনোভাব দূর করতেই তাঁরা নিজের মেয়েকে মাতৃরূপে আরাধনা করেছেন। অন্যদিকে, মা লক্ষ্মী বিশ্বাস বলেন, আমাদের মেয়ে সত্যিই লক্ষ্মী। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় তাকে এ ভাবে পুজো করতে পেরে আমরা গর্বিত।
বিশেষ প্রার্থনা ও পুরোহিতের মত
এদিনের এই পুজোয় শুধু নারী সুরক্ষা নয়, সমাজের বিভিন্ন বঞ্চনার চিত্রও উঠে এসেছে।
দেবাশীষ জানান, সমাজের যে সমস্ত বঞ্চিত মানুষ আজ ন্যায়বিচারের দাবিতে ধর্নায় বসেছেন এবং যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও চাকরি হারিয়েছেন, মা লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা করেছেন তাঁরা যেন দ্রুত নিজেদের অধিকার ফিরে পান এবং পরিবার নিয়ে আনন্দে থাকতে পারেন।
পুজোর পুরোহিত তরুণ ব্যানার্জি বলেন, মেয়েরা মায়ের সমান। মেয়েকে লক্ষ্মী রূপে পুজো করা সম্পূর্ণ বিধিসম্মত। সমাজ থেকে শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে এবং নারীদের মর্যাদা রক্ষা করতে প্রত্যেক পরিবারের এই মানসিকতা রাখা উচিত।
দুর্গোৎসবের সময় কুমারী পুজো প্রচলিত থাকলেও, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় নিজ কন্যাকে লক্ষ্মী রূপে আরাধনা করার ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতির এই ব্যতিক্রমী ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ দেখতে এবং ছোট্ট শ্রুতিকে আশীর্বাদ করতে এলাকার বহু মানুষ ভিড় জমান। সাধারণ মানুষের আশা, এই ধরনের বার্তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।