পাঞ্জাবের ১১৭টি আসনে একাই লড়াই করে সরকার গড়ার হুঙ্কার দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বদলাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের অবস্থান। ভোটের মাস পাঁচেক আগে কার্যত এককভাবে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন থেকে সরে এসে জোটের উপরেই ভরসা রাখছে বিজেপি। শুক্রবার দিল্লিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিলেন, আগামী নির্বাচনে পাঞ্জাবে সরকার গড়বে এনডিএ। তাঁর এই মন্তব্যে বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দলের ফের জোটবদ্ধ হওয়ার জল্পনা আরও জোরাল হল।
পশ্চিমবঙ্গের পর পাঞ্জাবকেও পাখির চোখ করেছে বিজেপি। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরই পাঞ্জাব দখলের লক্ষ্য স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির কাছাকাছি এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় কৌশলগত দিক থেকেও পাঞ্জাবের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এই রাজ্যে একক শক্তিতে সরকার গড়ার নজির নেই বিজেপির। অতীতে শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে জোট করে সরকারে থাকলেও বরাবরই ছোট শরিকের ভূমিকায় ছিল তারা।
এবার অবশ্য ছবিটা বদলানোর পরিকল্পনা ছিল গেরুয়া শিবিরের। পাঞ্জাবে একক শক্তিতে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে সংগঠন বিস্তারে জোর দিয়েছিল বিজেপি। কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দলের একাধিক নেতাকে দলে টানা হয়। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান এবং গ্রামাঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রস্তুতির মধ্যেই অকালি দলের সঙ্গে ফের জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এককভাবে লড়াই করে ক্ষমতায় পৌঁছনোর পথ যে যথেষ্ট কঠিন, তা বুঝেই পুরনো শরিকের দিকে ঝুঁকছে বিজেপি।
পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বিজেপি ও অকালি দলের সমীকরণ দীর্ঘদিনের। শহরাঞ্চল এবং হিন্দু ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে অকালি দলের সংগঠন শক্তিশালী। শিখ ভোটারদের একাংশের মধ্যেও দলটির প্রভাব রয়েছে। ফলে দুই দলের ভোটব্যাঙ্ক একত্রিত হলে নির্বাচনী লড়াইয়ে সুবিধা মিলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
১৯৯৬ সাল থেকে এনডিএ-র শরিক ছিল অকালি দল। পাঞ্জাবে জোট সরকার পরিচালনার পাশাপাশি কেন্দ্রেও এনডিএ-র সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল দলটি। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে অকালি দল। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়াই করে দুই দলই ধাক্কা খায়। এবার সেই পুরনো সমীকরণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এই জোট-জল্পনার মধ্যেই অমিত শাহের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদলও দলের নেতাদের শহরাঞ্চলের বদলে গ্রামাঞ্চলে সংগঠন মজবুত করার দিকে বেশি নজর দিতে বলেছেন। শহরাঞ্চলের ভোটের দায়িত্ব বিজেপি সামলাবে, আর গ্রামে নিজেদের শক্তি বাড়াবে অকালি দল—এমনই সমঝোতার সম্ভাবনা ঘিরে আলোচনা চলছে।
সূত্রের আরও দাবি, দীপাবলির পর পাঞ্জাবে একটি বড় জনসভার আয়োজন করতে পারে বিজেপি। সেই সভা থেকেই দুই দলের জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে জল্পনা। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও হয়নি। তবে অমিত শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট, পাঞ্জাব দখলের লড়াইয়ে একক শক্তির বদলে জোটের অঙ্ককেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।




